দেশের মানবিক ও ধর্মীয় সেবামূলক কর্মকাণ্ডে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি উঠেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন–এর কার্যক্রম ঘিরে। চলতি সময়ে সংস্থাটি ২৩৩ মেট্রিক টন ইফতারসামগ্রী বিতরণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের ঘরে ঘরে এসব ইফতার পৌঁছে দেওয়া হয় দাতাদের অনুদানের অর্থে।
সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমদুল্লাহ বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এত বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয়েছে। তিনি মনে করেন, জনসেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়, বরং সততা, জবাবদিহিতা ও মানুষের আস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ধর্ম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি হজ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেন। এর ফলে গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যয়ে হজ পালনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানানো হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, হজ কার্যক্রম শেষে অবশিষ্ট প্রায় ৯ কোটি টাকা হাজীদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অতীতে হজ ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও ভোগান্তির অভিযোগ থাকলেও গত ১৮ মাসে উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযোগ ওঠেনি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এ সময় আরও কয়েকটি পদক্ষেপ আলোচনায় আসে। এর মধ্যে রয়েছে ইমামদের ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে মর্যাদা প্রদান এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৮ মাসে উপাসনালয়ে হামলা বা পূজামণ্ডপ ভাঙচুরের বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সেবাখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। মানবিক সহায়তা ও ধর্মীয় প্রশাসনে সাম্প্রতিক এসব উদ্যোগ সে সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
