গাজায় চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে জাতিসংঘ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে এটিই প্রথম দুর্ভিক্ষ ঘোষণা, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ মানুষ “বিপর্যয়কর ক্ষুধার” মুখোমুখি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক সংস্থা আইপিসি (Integrated Food Security Phase Classification)।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, এই দুর্ভিক্ষ পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য ছিল। তার দাবি, “ইসরায়েলের পদ্ধতিগত বাধার কারণে” খাদ্য ও জরুরি সরঞ্জাম গাজায় পৌঁছাতে পারছে না।
তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎক্ষণাৎ এ দাবির বিরোধিতা করে জানায়, “গাজায় কোনও দুর্ভিক্ষ নেই”। তাদের মতে, আইপিসির প্রতিবেদন হামাসপন্থী সংস্থা ও স্বার্থান্বেষী মহলের প্রচারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি।
আইপিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী:
১৫ আগস্ট ২০২৫ থেকে গাজা সিটিতে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হয়েছে (আইপিসি পর্যায় ৫)
সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেইর এল-বালাহ ও খান ইউনিস জেলাতেও দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ জীবন-মরণ পরিস্থিতির মধ্যে আছে।
সেপ্টেম্বর নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে ৬.৪১ লাখে পৌঁছাবে, যা গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলো কয়েক মাস ধরেই গাজায় খাদ্যাভাব ও মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করছিল। ২২ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত এই সংকটকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ
অনুবাদ: হাসান আল মাহমুদ
হাআমা/
