আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে ‘জিহাদি ঐতিহ্য সংরক্ষণ আইন’ নামে একটি নতুন আইন সরকারি গেজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সুপ্রিম লিডার আমিরুল মুমিনিনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় এই আইনটি প্রকাশ করে। বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই আইনটিতে একটি প্রস্তাবনা, একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায়, দুটি বিভাগ এবং মোট ১৪টি ধারা রয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ‘জিহাদি রেকর্ড সংরক্ষণ সংক্রান্ত সাধারণ অধিদপ্তর’ এই আইনটি বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব পালন করবে।
নতুন এই আইনটির মাধ্যমে উক্ত অধিদপ্তরের রূপরেখা নির্ধারণ, তাদের কাজের পরিধি স্পষ্টীকরণ এবং আমেরিকান দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দুই দশকের জিহাদ সম্পর্কিত নথিপত্র সংগ্রহ, বিন্যাস ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এই সমস্ত ঐতিহাসিক উপাদান ও তথ্য প্রকাশের সঠিক প্রক্রিয়াও এই আইনে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এই অধিদপ্তরকে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২০ বছরের সংগ্রামের একটি বিস্তারিত ও সমন্বিত ইতিহাস সংকলন ও নথিবদ্ধ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ইসলামিক আমিরাতের প্রথম শাসন আমলের বিশদ বিবরণ এবং অতীতে সোভিয়েত ও ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মুসলমান ও মুজাহিদীনদের জিহাদ ও আত্মত্যাগের ইতিহাসও এই প্রকল্পের অধীনে নথিবদ্ধ করা হবে।
আফগান বিচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির নাগরিকরা চাইলে বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা ও গণসংযোগ অধিদপ্তর থেকে এই গেজেটের মুদ্রিত কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের আইন ও ডিক্রি ডাটাবেজ বিভাগ থেকে এই আইনের ইলেকট্রনিক বা পিডিএফ সংস্করণটি ডাউনলোড করার সুযোগও রাখা হয়েছে। এই আইনের সমস্ত স্বত্ব ও প্রকাশনা অধিকার সম্পূর্ণভাবে বিচার মন্ত্রণালয়ের কাছে সংরক্ষিত থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া এর অননুমোদিত পুনরুৎপাদন বা অনুলিপি তৈরি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
টিএইচএ/
