পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের “বর্বর আগ্রাসন” বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দোহায় বৈঠকের সময় তিনি এ আহ্বান জানান। এই সফরটি ছিল কাতারের প্রতি সংহতি জানাতে তার আনুষ্ঠানিক সফরের অংশ।
গত মঙ্গলবার ইসরাইল দোহায় হামলা চালায়। হামাস জানিয়েছে, তাদের শীর্ষ নেতারা বেঁচে গেছেন, তবে পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। এক কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রাণ হারান। নিহতদের জানাজা বৃহস্পতিবার দোহায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ এ হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানের কঠোর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এটি ছিল “বর্বর ও নৃশংস” হামলা। তিনি নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং কাতারের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতির আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ও কাতার সবসময় একে অপরের পাশে থেকেছে। অন্যায় উসকানির মোকাবেলায় দোহাকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইসলামাবাদ।
শাহবাজ শরিফ গাজার শান্তি প্রচেষ্টায় কাতারের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ইসরাইলের আগ্রাসনের লক্ষ্য হলো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করা এবং কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগকে ব্যাহত করা।
কাতারের অনুরোধে পাকিস্তান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে, ১৫ সেপ্টেম্বর দোহায় অনুষ্ঠিতব্য অসাধারণ আরব-ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনকে পাকিস্তান সমর্থন করেছে এবং ওআইসি কাঠামোর আওতায় কো-স্পনসর হওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছে।
শাহবাজ শরিফ এ সময় কাশ্মীর ইস্যুতে এ বছর ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার সময় পাকিস্তানের প্রতি কাতারের দৃঢ় সমর্থনের জন্যও আমিরকে ধন্যবাদ জানান। দুই নেতা আঞ্চলিক শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের সফরে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক ডার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং বিশেষ সহকারী তারিক ফাতেমি উপস্থিত ছিলেন।
হামাস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ছিল শীর্ষ আলোচক খলিল আল-হাইয়ার ছেলে হুমাম, তার কার্যালয়ের পরিচালক জিহাদ লাবাদ এবং দেহরক্ষী আহমদ মামলুক, আবদাল্লাহ আবদেলওয়াহেদ ও মোমেন হাসুন। নিহত কাতারি নিরাপত্তা সদস্য হলেন ল্যান্স করপোরাল বাদর সাদ মোহাম্মদ আল-হুমাইদি আল-দোসারি।
কাতারি প্রধানমন্ত্রী শেখ আল থানিও সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, হামলা ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তির আশা শেষ করে দিয়েছে এবং কাতার তার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করছে।
২০১২ সাল থেকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরো দোহায় অবস্থান করছে, যেখানে একাধিক দফায় হামাস-ইসরাইলের পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়
পাকিস্তানসহ একাধিক দেশ ইসরাইলি হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, “এটি কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার নগ্ন লঙ্ঘন, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক ডারও হামলাকে “ঘৃণ্য ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” আখ্যা দিয়ে কাতার ও তার জনগণের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সমর্থনের আশ্বাস দেন।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলার দায় স্বীকার করে বলেন, “ইসরাইল এটি শুরু করেছে, ইসরাইল করেছে, আর ইসরাইলই সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছে।”
কাতার এ হামলাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানদণ্ডের প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং কাতারিদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। কাতারি প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেছেন, “নেতানিয়াহু এই হামলার মাধ্যমে বন্দিদের মুক্তির আশা হত্যা করেছেন। তাকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।”
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ হামলাকে “সার্বভৌমত্বের নগ্ন লঙ্ঘন” আখ্যা দিয়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
সৌদি আরবও সর্বোচ্চ কণ্ঠে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি কাতারের সার্বভৌমত্বের নির্মম ও ঘৃণ্য লঙ্ঘন। সূত্র: জিও নিউজ
অনুবাদ: হাসান আল মাহমুদ
হাআমা/
