পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ বলেছেন, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রয়োজন পড়লে পাকিস্তান সৌদি আরবকে নিজ দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘উপলব্ধ’ করাতে পারে। তাঁর এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে এই সপ্তাহে সই হওয়া চুক্তির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত খাজা আসিফ বলেন, “পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা আমরা অনেক আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত করেছি। পরীক্ষা চালানোর সময় থেকেই সেটি নিশ্চিত ছিল এবং তারপর থেকে আমরা আমাদের বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করেছি।” তিনি আরও বলেছেন, “আমাদের যা আছে এবং যে সক্ষমতা আছে, তা এই চুক্তির সাপেক্ষে (সৌদি আরবকে) উপলব্ধ করা হবে।”
গত বুধবার স্বাক্ষরিত ওই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে—কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় যৌথ প্রতিরক্ষা গ্রহণ করা হবে। প্রশ্ন করলে খাজা আসিফ জানান, ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশও চাইলে এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারবে—“অন্যদের জন্য দরজা বন্ধ নয়,” তিনি বলেন।
চুক্তির অধীনে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “এই চুক্তির অধীনে আমাদের সমস্ত ক্ষমতা প্রযোজ্য থাকবে। তবে আমি মনে করিয়ে দিতে চাই—পাকিস্তান একটি দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তি; এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।” তিনি আরও যোগ করেন যে পারমাণবিক পরিদর্শনে পাকিস্তানের যে সহযোগিতা রয়েছে তা কিছু দেশের আচরণ থেকে আলাদা, যারা পরিদর্শনই মঞ্জুর করে না।
আসিফ এই চুক্তিকে একটি ন্যাটো-সদৃশ প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে উভয় দেশের নিরাপত্তা যৌথভাবে রক্ষিত হবে। তিনি বলেন, যদি পাকিস্তান বা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আক্রমণ ঘটে, তাহলে চুক্তি অনুযায়ী যৌথ প্রতিরক্ষা কার্যকর করা হবে।
হাআমা/
