ভারতের উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে মুসলিম আলেম মাওলানা তৌকির রাজাসহ আরও সাতজনকে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার তাকে আটজন সহযোগীর সঙ্গে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেফতার ঘটল, যেখানে জেলার বিভিন্ন থানায় ইতোমধ্যে ১০টি এফআইআর দায়ের হয়েছে।
অফিসিয়াল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি এফআইআরে ১৫০ থেকে ২০০ জন মুসলিমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে শতাধিক মানুষকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩-এর একাধিক ধারায় একযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, ধারা 191(2): সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া, ধারা 61(2): বেআইনি সমাবেশের মাধ্যমে শান্তিভঙ্গ, ধারা 49: কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য, ধারা 223 ও 221: সরকারি কর্তব্যে বাধা সৃষ্টি, ধারা 121 ও 132: রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা যুদ্ধের চেষ্টা, দাঙ্গা ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, ধারা 324(3): প্রাণঘাতী অস্ত্র দ্বারা স্বেচ্ছায় আঘাত করা, ধারা 352 ও 351(2): সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলা বা বলপ্রয়োগ।
জেলার পুলিশ সুপার (এসএসপি) অনুরাগ আর্য দাবি করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এসব অভিযোগ আনা ‘অত্যাবশ্যক।’
তবে স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতারা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, মুসলিম সমাজকে আতঙ্কিত করা এবং প্রতিবাদ দমন করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার বেরেলিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ‘আই লাভ মুহাম্মদ সা.’ নামে র্যালী বের করে স্থানীয় মুসলমানরা। সেখানে পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের ভেতর ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। এরই মধ্যে মাওলানা তৌকির রাজা গ্রেফতারের ঘটনা ঘটলো।
সম্প্রতি বেরেলিতে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও বড় আকারের সমাবেশ হওয়ায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। বর্তমানে শহরের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সূত্র: মাকতুব মিডিয়া, ভারত।
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
