বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি >>>
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এক রাজনৈতিক সভা আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনগণ ও দলের ভেতরেই এ নিয়ে তৈরি হয়েছে সমালোচনা ও প্রশ্ন।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বেতাগী সরকারি পাইলট হাই স্কুলে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মল্লিক। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বেতাগী উপজেলার আহ্বায়ক রাসেল সাবরিন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সমিতির সদস্য সচিব মোস্তারী আক্তার এ্যানি।
এদিকে দুর্গাপূজার ছুটির মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে নিয়ে রাজনৈতিক সভা আয়োজন কতটা যুক্তিযুক্ত—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। কারণ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এসব শিক্ষকই অনেক কেন্দ্রে পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বরগুনা-২ আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী মাওলানা শামীম আহমেদ বলেন,
“নুরুল ইসলাম মনি সাহেব বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রীয় পদে নেই, তারপরও কীভাবে তিনি সরকারি প্রটোকল ব্যবহার করেন? সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পোলিং অফিসারের দায়িত্বে থাকবেন, তাদের নিয়ে এমন রাজনৈতিক প্রোগ্রামের অনুমতি দল থেকে দেওয়া হয়নি।”
১২-দলীয় জোটভুক্ত বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রেসিডেন্ট ও আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী লায়ন ফারুক রহমান বলেন,
“এ ধরনের প্রোগ্রামের কোনো দলীয় অনুমোদন নেই। এটা রাজনৈতিকভাবে অনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্যও হুমকিস্বরূপ।”
মনোনয়নপ্রত্যাশী মোঃ মনিরুজ্জামান মনির বলেন,
“নুরুল ইসলাম মনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষকদের দিয়ে রাজনৈতিক সভা করেছেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে দাবি জানাই, তিনি যেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হন।”
এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, শিক্ষক সমাজকে রাজনীতিকরণ দেশের শিক্ষা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
এনএ/
