রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখীর দাপট আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতের মধ্যে দেশের ১১টি জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বুধবার রাত ১টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬১ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম আরও জানান, উল্লিখিত জেলাগুলো ছাড়াও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। ওইসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় সাগর উত্তাল রয়েছে, যার ফলে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলিতে, যার পরিমাণ ছিল ১৬০ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলায় ১৫১, ফেনীতে ১৪৮, ময়মনসিংহে ১১৫, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১১৪ এবং কুমিল্লায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ জেলাতেই মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ জনজীবনে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, আগামী ৪ থেকে ৫ দিন এই বৃষ্টির প্রবণতা ও কালবৈশাখীর প্রভাব বজায় থাকতে পারে। তবে বর্ধিত ৫ দিন পর বৃষ্টিপাত কমে এলে সারা দেশে তাপমাত্রা পুনরায় বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিএইচএ/
