প্রতিটি খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে থাকে এক বা একাধিক প্রিয় মুহূর্ত—যে মুহূর্তে তাঁর ব্যাট-বল বেজে ওঠে নিখুঁত তালে-লয়ে। সেই মুহূর্তের পেছনে লুকিয়ে থাকে দীর্ঘ সাধনা, ঘাম, ব্যর্থতা আর প্রত্যাবর্তনের গল্প। বাংলাদেশের তরুণ অলরাউন্ডার সাইফ হাসানের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়।
এক সময় ক্যারিয়ারের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো এখানেই শেষ সাইফের পথচলা। টেস্টে ব্যর্থতা, নির্বাচকদের আস্থা হারানো, এমনকি দলে জায়গা হারানো। সব মিলিয়ে যেন এক অন্ধকার অধ্যায়। ২০২০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর মাত্র ছয় ম্যাচ খেলেই সাইফ থেমে যান। সেই ছয় ম্যাচে মোটে ১৫৯ রান, হাতে মাত্র একটি উইকেট। পরিসংখ্যান বলছিল, জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া তার জন্য অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তবে এখান থেকেই নতুন শুরুর গল্প লেখেন সাইফ। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে গড়ে তোলেন নতুনভাবে। দীর্ঘ অনুশীলন, আত্মবিশ্বাস আর ধৈর্যের ওপর ভর করে ফেরেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
তাঁর নিজের ভাষায়,
“গত এক-দুই বছর ধরে আমি এভাবেই খেলছি। আমি শুধু ব্যাটিংটা উপভোগ করছি, ব্যস এতটুকুই।”
এই সহজ কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর রূপান্তরের রহস্য। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে যেন নতুন সাইফকে দেখেছে বাংলাদেশ। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট হাতে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। সিরিজের শেষ ম্যাচে শারজায় অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংসে ছক্কার ফুলঝুরি ছড়িয়েছেন। মাত্র ৩৮ বলে ৬৪ রান, ৭টি ছক্কা আর ২টি বাউন্ডারি। ১৬৮ স্ট্রাইক রেটে।

তাঁর ব্যাটিংয়ে টেস্ট ক্রিকেটারের ধৈর্য আর টি-টোয়েন্টির আগ্রাসন—দুইয়ের মিশেল। সরল স্ট্রেইট শট, নিখুঁত টাইমিং আর স্পিনের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়াই এখন তাঁর শক্তি। সাইফের নিজের ভাষায়, “আমি সোজা ব্যাটে খেলার চেষ্টা করি এবং স্পিনের সঙ্গে একই দিকে বল পাঠাই—এটাই আমার শক্তির জায়গা।”
টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ২১টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিতে প্রস্তুত। শারজার সেই ইনিংস ছিল শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের পুনর্জন্মের গল্প।
সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী ৮ তারিখ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দেখা যাবে নতুন ফরম্যাটে তাঁর অভিষেক। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশায় বুক বাঁধছেন—কুড়ি কুড়ির মতো ওয়ানডেতেও সাইফ দেখাবেন তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্য।
মেধা অনেকেরই থাকে, কিন্তু ধৈর্য ও পরিশ্রমই আলাদা করে দেয় একজন প্রকৃত খেলোয়াড়কে। ব্যর্থতার ভেতর থেকে উঠে আসার গল্পে সাইফ হাসান আজ সেই বার্তাই দিচ্ছেন—“মেধাবীরা হয়তো হারে, কিন্তু পরিশ্রমীরা কখনো হারেন না।”
টিএইচএ/
