সিরাজগঞ্জ সদর থানার চাঞ্চল্যকর মাদক ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলম শেখ ওরফে মঞ্জুর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিরাজগঞ্জ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই আসামি—মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মো. আলম খান—কে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করলে তারা স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই জানায়, ভিকটিম মঞ্জুর আলম শেখ (৪০) দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি। পরদিন সকালে স্ত্রী কল্পনা খাতুন লোকমুখে জানতে পারেন, শহীদ এম. মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার স্বামীর লাশ পড়ে আছে। পরে পরিবার সেখানে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে এবং কল্পনা খাতুন বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পিবিআই সিরাজগঞ্জ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ (পিপিএম)-এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে একটি চৌকস দল তদন্ত শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য এবং গোপন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে পিবিআই দল হত্যার পেছনের কারণ ও আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন শফিপুর পূর্বপাড়া দিনারগেট এলাকায় ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, মাদকের ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই তারা মঞ্জুরকে হত্যা করে। আদালতে তারা বিস্তারিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেছে।
পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
হাআমা/
