নিউইয়র্কে ইতিহাস: মামদানির বিজয়ে উচ্ছ্বসিত মুসলিমরা

by hsnalmahmud@gmail.com

নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছে শহরের মুসলিম জনগোষ্ঠী। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার ‘মোকা অ্যান্ড কো’ নামের এক ক্যাফেতে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার সময় জোহরান মামদানির বিজয়ের খবর পৌঁছাতেই শত শত মুসলিম নাগরিক আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠেন—“মামদানি! মামদানি!”

ক্যাফের পরিবেশ মুহূর্তেই আলোকিত হয়ে ওঠে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটে, কেউ কেউ আনন্দে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ!”
৩২ বছর বয়সী ফাতিমা খান বললেন, “এটা অবিশ্বাস্য লাগছে। এক জায়গায় এত মুসলিম নেতাকে দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তিনি জিতেছেন—এ যেন আমাদের সবার জয়।”

বিজ্ঞাপন
banner

প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নিউইয়র্কে নতুন অধ্যায়

আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর মামদানি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী মুসলিম নির্বাচিত কর্মকর্তা। মুসলিম সমাজের কাছে এই জয় শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং পরিচয় ও সম্মানের এক নতুন সূচনা।

৪১ বছর বয়সী ফার্মাসিস্ট সুমাইয়া চৌধুরী বলেন, “আমি আগেভাগেই ভোট দিয়েছিলাম, আর কেঁদে ফেলেছিলাম। আগে কখনও ভাবিনি, নিউইয়র্কে কোনো মুসলিম মেয়র হতে পারেন।”

প্রায় ২০ লাখ ভোটের মধ্যে মামদানি পেয়েছেন প্রায় ১০ লাখ ভোট, যা গত পঞ্চাশ বছরে কোনো মেয়র প্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ। তাঁর প্রচারণার মূল বার্তা ছিল—‘সস্তায় জীবনযাপন’, অর্থাৎ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো।

মুসলিমদের মাঝে আস্থা ও অংশগ্রহণের জোয়ার

প্রচারণার শুরু থেকেই মামদানি মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। হাজারো স্বেচ্ছাসেবক কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ঘরে ঘরে প্রচারণা চালান—বাংলা, আরবি ও উর্দু ভাষায়।

ধর্মীয় পরিচয়কে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে তিনি ৫০টিরও বেশি মসজিদে নামাজ পড়েন এবং মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রমজান মাসে নিউইয়র্কের কিউ ট্রেনে বসে তাঁর ইফতার করার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়—যা তাঁকে মুসলিম ভোটারদের কাছে আরো ঘনিষ্ঠ করে তোলে।

‘আমরা আর প্রান্তে নই, এবার নেতৃত্বে’

কুইন্সের ‘ড্রিম এমপাওয়ারমেন্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা রানা আবদেলহামিদ বলেন, ‘মুসলিমরা এই শহরের প্রতিটি কোণে আছে—শিক্ষক, ব্যবসায়ী, দোকানদার। এতদিন আমরা শহরের মূল চালিকাশক্তি হয়েও প্রান্তে ছিলাম। এখন সময় আমাদের।’

ইতিহাসবিদ আসাদ দানদিয়া বলেন, ‘নিউইয়র্ককে বলা হয় সব সংস্কৃতির মিলনস্থল, কিন্তু মুসলিমদের ক্ষেত্রে সেটা এতদিন ছিল কেবল কথার কথা। এখন আমাদের একজন মেয়র আছে—এটা পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এক মাইলফলক।’

৯/১১ পরবর্তী বাস্তবতা ও নতুন আশা

৯/১১ হামলার পর থেকে নিউইয়র্কের মুসলিমরা বারবার ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। মামদানির উত্থান সেই মনোভাবকে নতুন আলোচনায় এনেছে। ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণের মুখেও তিনি প্রকাশ্যে নিজের বিশ্বাসে দৃঢ় থেকেছেন।

অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রঙ্কসের ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘মুসলিমরা অনেক সময় এই শহরের ছায়ায় বসবাস করেন। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—এখন থেকে আমরা আর ছায়ায় থাকব না।’

ভবিষ্যতের প্রেরণা

মামদানির এই বিজয়ে নিউইয়র্কের মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আগ্রহ বাড়ছে। ইতিমধ্যে কুইন্সের দুইজন বাংলাদেশি প্রার্থীও আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন।

মালি থেকে ব্রঙ্কসে আসা ২৮ বছর বয়সী ছাত্রী আমিনাতা দিয়ালো বলেন,

“মামদানির গল্প আসলে আমাদেরই গল্প। তিনি দেখিয়েছেন, আমরা এই শহরের প্রতিটি জায়গায় থাকার যোগ্য—আমাদের কণ্ঠ ও মূল্যবোধ শহরের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রতিবেদন: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে। 

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222