উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আমাদের দেশে যারা অ্যাথলেট আছে, তাদের যদি উসাইন বোল্টের মতো ২০ ঘন্টা করে ট্রেইনিং করানো হয়, তারা কী উসাইন বোল্ট হবে? নাকি মারা যাবে? কাজেই অতিরিক্ত সংস্কার, যেটা আমরা নিতে পারি না। সেটা করে আমরা রাষ্ট্র কাঠামোকে দুর্বল করে ফেলি কিনা। সেটাও আপনাদের চিন্তা করতে হবে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনে সোহেল স্মৃতি মিলনায়তনে ঢাকায় ই-পারিবারিক আদালতের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, অনেকে সংস্কারের ব্যাপারে বলেন, কই সংস্কার? কোন কিছুই দৃশ্যমান হচ্ছে না। প্রতিদিন আইসিটিতে বিচার দেখায়। এরপরও বলে বিচার দৃশ্যমান হচ্ছে না৷ আমাদের এখানে যে বিচার, সংস্কার হচ্ছে না, সেটা নিয়ে হাহাকার, আকাঙ্ক্ষা থাকবে। কিন্তু যেগুলো হচ্ছে, সেটাকে তো উৎসাহিত করতে হবে।
আপনাকে মামলা দায়ের করতে হবে না। আমরা আইন করে দিয়েছি, পারিবারিক আদালতে আপনার প্রথমে যাওয়ার প্রয়োজন নাই। বিনা খরচে, বিনা সমস্যায় লিগ্যাল এইডে গিয়ে আপনি সেই সুবিধা পাবেন। পারিবারিক সমস্যার ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইডকে আমরা মেন্ডেটরি-আবশ্যকীয় করে দিয়েছি। একজনের পরিবর্তে ৩ জন বিচারক দিয়েছি। লিগ্যাল এইডে সন্তুষ্ট না হলে পারিবারিক আদালতে যেতে পারবেন৷ আমরা এখন ২০ জেলায় এটা শুরু করতে পেরেছি। যাওয়ার আগে, ৬৪টি জেলায় লিগ্যাল এইড করে দিয়ে যাবো। যখন আমরা অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করব, যখন এটা পুরোপুরি ফাংশনাল (কার্যকর) হবে। বাংলাদেশে যত মামলা হয় তার ওয়ান থার্ড (৩ ভাগের একভাগ) কমে যাবে। ৫ বছরের মধ্যে মামলার জট পঞ্চাশ শতাংশ কমে যাবে।
অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, আজকে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম চালু হলো। এর ফলে সময়, শ্রম ও মামলার জট নিবরাস ঘটবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে উপদেষ্টারা ঢাকার ই-পারিবারিক আদালতগুলো ঘুরে দেখেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ, ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মো. খোরশেদ মিয়া আলম, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান প্রমুখ।
এআইএল/
