‘মহান আল্লাহ সম্পর্কে অশালীন মন্তব্যকারীকে কোনো ছাড় নয়’

by hsnalmahmud@gmail.com

আতাউল্লাহ নাবহান মামদুহ >>

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের আল্লাহ তাআলাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্যের ঘটনায় দেশের ইসলামি দলগুলো একযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের দাবি—এ ধরনের প্রকাশ্য ধর্ম অবমাননার ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার সাহস না পায়। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছেন—একটি কুচক্রী মহল এই ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত।

বিজ্ঞাপন
banner

হেফাজতে ইসলামের কঠোর প্রতিবাদ: “ধর্ম অবমাননায় কোনো ছাড় নয়”

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ভণ্ড বাউল আবুল সরকার প্রকাশ্যে আল্লাহ সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে গ্রেপ্তারের কারণ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে সাহস না পায়।’

তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন—ঘটনা কেন্দ্র করে যদি স্থানীয় আলেম ও প্রতিবাদী জনতাকে হয়রানি করা হয়, তবে এর পরিণতি ভালো হবে না।

হেফাজত মহাসচিব প্রশ্ন তুলে বলেন—‘আবুল সরকারের মতো ব্যক্তির পক্ষে দাঁড়ানো সেক্যুলার প্রগতিশীলরা কি দেশে ধর্ম অবমাননার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়?’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাউলবাদের আড়ালে ধর্ম বিকৃতির মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরির যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। জুলাই বিপ্লব বানচাল করতে ভারতের চক্রান্তের অংশ হিসেবে কিছু উগ্র পক্ষ আবুল সরকারের পক্ষে সুর তুলছে বলেও উল্লেখ করেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নিন্দা: “এটি বাকস্বাধীনতা নয়, সংবিধান লঙ্ঘন”

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন—আল্লাহ তাআলার প্রতি এ ধরনের কটূক্তি কোনোভাবেই বাকস্বাধীনতার আওতায় পড়ে না; বরং এটি দেশের সংবিধান, ইসলাম ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মৌলিক বিশ্বাসের ওপর সরাসরি হামলা।

তারা সরকারকে কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন—ধর্মবিদ্বেষমূলক বক্তব্য রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে দেশে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

জমিয়ত নেতৃবৃন্দ আবুল সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ধারায় মামলা গ্রহণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন—‘ইসলাম ও মুসলমানদের ধর্মীয় মর্যাদা সর্বদা সংরক্ষিত রাখতে হবে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্বেগ: ‘ঘটনাকে পুঁজি করে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন—বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, আর এই ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়েই একটি কুচক্রী মহল অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়। তার মতে,
“বাউল আবুল হোসেন আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করেছে। আরেকদল এই সুযোগে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে নোংরা খেলায় নেমেছে। এটি একটি গভীর চক্রান্ত।”

তিনি অভিযোগ করেন—ঘটনাটির প্রতিক্রিয়াকে বড় করে দেখিয়ে জনতাকে দোষারোপ করা হচ্ছে, অথচ আবুল হোসেনের মন্তব্যই ছিল মূল অপরাধ।

তিনি বলেন—‘মানুষের বাকস্বাধীনতা আছে, কিন্তু কারো বিশ্বাসকে আঘাত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই আবুল হোসেনসহ যারা তার পক্ষে দাঁড়াচ্ছে, তাদের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে হবে।’

মাওলানা ইউনুস আহমদ পুলিশি হয়রানির প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন—‘প্রতিটি ঘটনার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং কারা এর দ্বারা লাভবান হচ্ছে, তা বুঝে জাতির ক্রান্তিকালে সতর্কতার সঙ্গে ভূমিকা পালন করতে হবে।’

সামাজিক অস্থিরতা রোধে সকল ইসলামী দলের অভিন্ন অবস্থান

বিভিন্ন ইসলামি দল মনে করছে—এ ধরনের ধর্ম অবমাননার ঘটনা সমাজে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি। তাই তারা আবুল সরকারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222