অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে কড়াইল বস্তির একাধিক স্কুল, সাহায্যে এগিয়ে এলেন উলামায়ে কেরাম

by Fatih Work

আমিরুল ইসলাম লুকমান >>

গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর কড়াইল বৌ-বাজার বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বস্তিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৩০০০ পরিবারের ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। বস্তিতে থাকা স্কুল-কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। শতাধিক পরিবার পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কড়াইল বস্তিতে ১৫টি স্কুল আছে। এসব স্কুলে জেনারেল শিক্ষার সঙ্গে প্রায় ১৮০০ শিক্ষার্থী আলাদা ধর্মীয় শিক্ষকের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনসহ দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করে থাকে। এদের মধ্যে ৬০০ শিক্ষার্থীর ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে। পুড়ে গেছে তাদের স্কুলের বই-খাতা, কুরআন শেখার বই, পোশাক, শীতের কাপড়সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কুরআনি মক্তব পরিচালিত হয় এমন ২টি স্কুল আগ্নিকাণ্ডে পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে। কুরআনি মক্তবের দুইজন শিক্ষকের বাড়ি পরিপূর্ণ পুড়ে গেছে। অন্য প্রায় ১০ জন শিক্ষকের বাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অগ্নিদগ্ধ বস্তিবাসী, বাস্তুহারা পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের খেদমতে এবার এগিয়ে এসেছেন উলামায়ে কেরাম। বরাবরের মত মানবতার এ সংকটকালে নিঃস্বার্থভাবে বস্তিবাসীর কষ্ট লাঘব করতে ও খাদ্য-চিকিৎসার ঘাটতি পূরণের জন্য অর্থ সহায়তা নিয়ে ঘরবাড়িহারা মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় আলেমগণ।

গতকাল রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) আসরের পর আন নুর কুরআন শিক্ষা পরিবারের উদ্যোগে ‘মহাখালি কড়াইলের অগ্নিদগ্ধ পরিবারের খেদমতের কর্মসূচি’ পালিত হয়েছে। এই কর্মসূচির অধিনে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল-মক্তবের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

আয়োজক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত দুইজন উস্তাদকে ৫০ হাজার, ৩ জন শিক্ষককে ১৫ হাজার ও ৪৫ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, রাজধানীর বাড্ডা মিফতাহুল উলুম মাদরাসার শাইখুল হাদিস ও বাড্ডা-লৈহারটেক বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মজিদ বলেন, বস্তিতে বসবাসকারী পরিবার, স্কুল-মক্তবের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ যে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন, সে তুলনায় আমরা সামান্য অর্থ সহায়তা করতে পেরেছি। স্কুল সংস্কার, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষকদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরতে হলে এখানে আরো অনেক অর্থ সহায়তা প্রয়োজন। শতাধিক পরিবার এখনো খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। তাদের বাসস্থান, খাদ্য ও চিকিৎসা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা, স্কুলের বাচ্চাদের কুরআন শিক্ষার উপকরণ সরবরাহ করা ইসলামের দৃষ্টিতে অনেক বড় সওয়াবের কাজ। কয়েকজন দ্বীনদার ভাই ক্ষতিগ্রস্তদের খেদমতের এগিয়ে এসেছেন। সমাজের বিত্তশালী ও দরদি লোকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে আসা উচিত।

অর্থ সহায়তা কর্মসূচির দায়িত্বশীল মাওলানা শিহাব উদ্দীন জানান, সমাজে উপেক্ষিত, অবহেলিত মানুষ হওয়ার কারণে এ গরিব মানুষগুলোর প্রতি যেভাবে বিত্তশালী, সমাজপতিদের খোঁজ-খবর রাখার দরকার ছিল, সেটা না হলেও উলামায়ে কেরাম নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে বস্তিবাসীদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন।

এভাবে দ্রুত পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তা পাওয়া গেলে ১৮০০ শিক্ষার্থীর স্কুল ও কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম আমরা সুন্দরভাবে শুরু করতে সক্ষম হবো। নতুবা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী কুরআনি মক্তব থেকে ঝরে পড়ার আশংকাও আছে। আল্লাহ তাআলা সবকিছুর ব্যবস্থা করে দেন, আমরা সর্বসাধারণ মুসলিমদের কাছে এই দোয়া কামনা করছি।

এআইএল/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222