চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকার ফকির কলোনিতে শিশু নুসরাত জাহান তরী (৫) তার মা আতুশি মারমা ওরফে নওমুসলিম ফাতেমা বেগমের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতো। গত ২৭/০৬/২০২১ খ্রি. তারিখ সকালে মা কর্মস্থলে গেলে শিশুটি ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল এবং প্রতিবেশী রুমি বেগম দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। বেলা ১২ টার দিকে বাসার শয়নকক্ষের খাটের নিচে শিশুটিকে মুখে কাপড় গোঁজা অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। পরীক্ষায় তার লজ্জাস্থানে রক্তক্ষরণ, গলায় আঙুলের কালো দাগ ও হাতের নখ ভাঙার চিহ্ন পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কোনো এক সময়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। এই ঘটনায় ভিকটিমের মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানা মামলা দায়ের করেন।
থানা পুলিশ দুই বছরের অধিক সময় তদন্তের পরে কোনো রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় থানা পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে গত নভেম্বর, ২০২৩ এ পিবিআই এর উপর তদন্তভার ন্যস্ত করা হলে পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মর্জিনা আক্তার মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন।
পিবিআই প্রধান, অ্যাডিশনাল আইজিপি, জনাব মোস্তফা কামাল, বিপিএম (বার), পিপিএম এর সঠিক তত্তবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট ইনর্চাজ পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মর্জিনা আক্তার দীর্ঘদিন চেষ্টা করে ঘটনাস্থলের আশেপাশের ভাড়া থাকা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পারিপার্শ্বিক সাক্ষী, ঘটনাস্থলে ঘটনার সময় আসামীর অবস্থান, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ডি এন এ স্যাম্পল ও জব্দকৃত আলামত ইত্যাদি বিষয়কে আমলে নিয়ে ঘটনাস্থলের পাশের রুমের ভাড়াটিয়া রাসেল হোসেন শেখ (৩২) কে সন্দেহ হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মর্জিনা আক্তার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ গত ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ এ সন্দেহভাজন রাসেল শেখ কে পিবিআই এর হেফাজতে নিয়ে গভীর জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে একপর্যায়ে ধর্ষণের পরে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে এবং বিজ্ঞ আদালতে ফৌ: কা: বি: ১৬৪ ধারা অনুযায়ী দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই এর তদন্ত ও আসামীর জবানবন্দি থেকে জানা যায় যে, উক্ত আসামী মামলার শিশু ভিকটিম নুসরাত জাহান তরী (০৫) এর পাশের বাসার প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগে ভিকটিম তরী’র মায়ের কর্মস্থলে চলে যাওয়া, তরী একাকী ঘুমিয়ে থাকা ও ধর্ষণের ঘটনা সংঘটনের সময়কালে ঘটনাস্থল ভবনের সকল মহিলা ও পুরুষের যার যার কর্মে যাওয়া এবং তাদের ফেরত আসার সময় দীর্ঘক্ষন হবে- ইহা আসামীর জ্ঞাত ছিলো। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উক্ত আসামী ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ০৭:৪০ ঘটিকায় ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে পাশবিকভাবে শিশু তরীকে ধর্ষণ ও গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপরে কৌশলে ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট করে শিশুর মৃতদেহ গেঞ্জি দিয়ে পেচিয়ে খাটের নিচে রেখে অনুমান ০৮:৩০ ঘটিকার পরে আসামী তার স্বাভাবিক কাজকর্মে চলে যায়।
এমএআর/
