মোঃ নিজাম উদ্দিন স্বাধীন (স্টাফ রিপোর্টার) : বরগুনার পাথরঘাটায় ছেলের হাতে মো. মন্টু শিকদার (৬২) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে শনিবার (২২ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর কাঠালতলী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত মন্টু শিকদারের প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর সংসারের দুই ছেলে—মো. সোহেল (কাইয়ুম শিকদার) (৩৬) ও মো. নাসির শিকদার (৩৯)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ওই বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে গত শুক্রবার দুপুরে মন্টু শিকদারের ওপর হামলা চালায় তার দুই ছেলে। লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের দ্বিতীয় সংসারের ছেলে মো. রিয়াজ (হোসেন) শিকদার বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে পাথরঘাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ২১ মার্চ রাতে র্যাব-৮ পটুয়াখালী ও র্যাব-৩ মাদারীপুর ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে শরীয়তপুর থেকে সোহেল ও নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
তবে মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী কুদ্দুস ওরফে গেন্দু হাওলাদারকে আসামি করতে চাইলেও তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, থানা পুলিশের কারণে তাকে আসামি করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, “দিনদুপুরে ছেলের হাতে পিতা হত্যা অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা। আমরা যতটুকু জেনেছি, ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সহায়তায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এতে গেন্দু হাওলাদারের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।”
নিহতের ভাই মো. মাসুদ শিকদারও একই অভিযোগ তুলে বলেন, “আমরা গেন্দু হাওলাদারকে আসামি করতে চাইলেও পারিনি। তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাথরঘাটা থানার ওসি মো. এনামুল হক বলেন, “এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত জানতে বাদী ও বিবাদীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
হাআমা/
