শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক সহিংসতা ও আসক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে অস্ট্রেলিয়া সরকার নতুন একটি আইন কার্যকর করেছে।
এই আইনের আওতায় বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দিনের প্রথম প্রহরেই দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের লাখো অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে।
নতুন এই আইনের কারণে অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরেরা এখন থেকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় নিজেরা অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এ আইন প্রণয়নের ঘোষণা দেন এবং পরে সেটি দেশটির পার্লামেন্টে পাস হয়।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, আইন লঙ্ঘন করলে শিশু-কিশোরদের কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে না। বরং ব্যবহারকারীর বয়স অন্তত ১৬ বছর তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্ল্যাটফর্মগুলোর। কাজেই সবচেয়ে গুরুতর বিচ্যুতির জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৪৯ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা দিতে হবে।
আইনটির সমর্থকেরা বলছেন, এটি শিশুদের আসক্তিকর অ্যালগরিদমের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে, যে অ্যালগরিদম সহিংসতা, পর্নোগ্রাফি ও ভুল তথ্যের মতো ক্ষতিকর কনটেন্ট তাদের সামনে এনে দেয়।
এছাড়াও এটি সাইবার হেনস্তা (বুলিং) এবং অনলাইনে শিশুদের যৌন ও অন্যান্য শোষণ কমাবে, তাদের বাইরে খেলতে বাধ্য করবে, ঘুম ভালো হবে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো হবে। অন্যদিকে, নতুন আইনের সমালোচকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ আছে।
পাশাপাশি ভয় আছে, এটা নাজুক শিশুদের কোণঠাসা, একাকী করে ফেলতে পারে এবং অন্যদেরও অনলাইনের অন্ধকার এবং কম নিয়ন্ত্রিত অংশের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এনআর/
