বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বাজছে ভোটের দামামা। নির্বাচনী আলোচনায় মেতে উঠেছে শহর থেকে গ্রাম এমনকি রাস্তার মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে আড্ডায়। জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বহু বছরের মিত্র দুই দল বিএনপি এবং জামায়াত এখন একে অপরের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২৭২টি আসনে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। নরসিংদী-৩ (শিবপুর) প্রায় ২ লক্ষ ৮৪ হাজার ভোটার রয়েছে। নরসিংদীর ৫টি আসনের মধ্যে নরসিংদী-৩ (শিবপুর) ছাড়া বাকি ৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখনও প্রার্থীতা ঘোষণা হয়নি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত নরসিংদী-৩ (শিবপুর) বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার আসনটিতে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গুডলিষ্টের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মনজুর এলাহী। তিনি নরসিংদী জেলা চেম্বার অব কর্মাস ইন্ড্রাষ্ট্রিজ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১দফা কর্মসুচি বাস্তবায়ন করতে দলীয় নেতাকর্মী সর্বসাধারনের ভালবাসা নিয়ে সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় বড় সভা সমাবেশ করেছেন তিনি। বিগত দিনে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করে শতভাগ সফল হয়েছেন তিনি। যিনি সততা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। তার সৎ, বিশ্বাসযোগ্যতা ন্যায় নীতিবান এবং দৃঢ়চেতা এবং যিনি কথা ও কাজে মিল রেখে, স্বচ্ছতার সাথে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্যদের জন্য আদর্শ স্থাপন করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দলের নেতাকর্মীদের কাছে আস্থা অর্জন করতে স্বক্ষম হয়েছেন, আনুগত্য ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি তৈরি করে অনুসারীদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত হয়েছেন এবং তৃণমূলকে সুসংগঠিত করে দলকে একটি টেকসই ও সফল ভিত্তি তৈরি করেছেন। তাই নরসিংদী তথা শিবপুরে মনজুর এলাহী’র জনপ্রিয়তা শীর্ষে।
মনজুর এলাহীর দলীয় নেতাকর্মীসহ জনপ্রিয় এই নেতা নিজ দল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কারও কাছে রাজনৈতিক গুরু, কারও বা সহযোদ্ধা, কেউ আবার তাকে মানেন অভিভাবক, সকলের স্বীকৃতি প্রাপ্ত দানবীর ও নরসিংদীর শিক্ষার প্রতীক, আবার কারও কাছে জনতার মঞ্জুর এলাহী। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক নানা সংকটে থেকেও শিবপুরের মানুষের পাশে থেকে বিএনপির এই নেতা হয়ে উঠেছেন সিংহ পুরুষ। কেবল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, রিকশা চালক, দিনমজুর সহ সবশ্রেনীর পেশার মানুষের কাছে মনজুর এলাহী একজন নিবেদিত প্রাণ। বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে তিনিই একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ও সকলের আস্থার প্রতীক। এক কথায় শিবপুরের উন্নয়নের কণ্ঠস্বর ও রুপকার দুটোই তিনি। নরসিংদী জেলা মধ্যে মনজুর এলাহী স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনে সামনের কাতার থেকে সৎ সাহসিকতার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। শেখ হাসিনার আমলে সকল গায়েবী মামলা থেকে শিবপুরসহ জেলার অন্যান্য নেতাকমীদেরকে মুক্ত করতে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করায় বিপদের বন্ধু হিসেবে স্বীকৃক্তি লাভ করেছেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, “রাজনীতি মাঠে একটা জনপ্রিয় নেতা হওয়ার যোগ্যাতা অর্জন করার যা যা যোগ্যতা দরকার আলহাজ্ব মনজুর এলাহীর মধ্যে এর চেয়ে অনেক বেশী যোগ্যতা খুঁজে পেয়েছি আমরা। বেশী জনপ্রিয়তাই তার কাল হয়ে দাড়িয়েছে। একটি চক্র তার জনপ্রিয়তাকে সহ্য করতে পারছে না। আগামী সংসদ নির্বাচনে মনজুর এলাহীকে মনোনয়ন দেয়া হলে দুর্নীতিমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।” তারা আরো বলেন, “মনজুর এলাহী নরসিংদী-৩ (শিবপুর) থেকে মনোনয়ন পেলে তিনি দলকে সামনের দিকে অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে যাবেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে তিনি তার কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত এবং শিক্ষা ও শিল্পনগরী গড়তে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে নিশ্চিত মনে করেন জনসাধারন। শুধু তাই নয় তার সততা, নিষ্ঠা, উন্নয়ন, অগ্রগতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, আইন প্রণয়ন সবক্ষেত্রেই মনজুর এলাহীর দক্ষ ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ত্যাগী পরিক্ষীত স্বচ্ছ ও পরিছন্ন রাজনীতিবিদ। স্থানীয় নেতা-কর্মী সমর্থকসহ গোটা শিবপুরবাসীর প্রাণের দাবী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার মনজুর এলাহীকে মনোনয়ন দিয়ে যথার্থ মূল্যায়ন করবেন। তাই আগামী ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনজুর এলাহীকে শিবপুরের এমপি হিসেবে দেখতে চান তৃণমূল নেতাকর্মী ও শিবপুরের সর্বস্তরের জনগন। বিএনপির তুখোড় এই নেতা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব থেকে পরবর্তীতে গোপন ভোটে নির্বাচিত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিগত ২০০৯ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরপর দুইবার আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের অবস্থান তুলে ধরার পর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
এ ব্যাপারে আলহাজ্ব মনজুর এলাহী বলেন, “নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনে কাকে মনোনয়ন দিবেন এটা একমাত্র দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং আগামীদিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানই জানেন। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। শিবপুরবাসীর দাবীর পরিপেক্ষিতে পরিশেষে মনজুর এলাহীকে মনোনয়ন দিয়ে যথার্থ মূল্যায়ন করবেন বলে শিবপুরবাসী এমনটাই আশা করেন।”
এমএআর/
