১১ দলের আসন সমঝোতার টানাপোড়েন কাটছেই না, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

by hsnalmahmud@gmail.com

হাসান আল মাহমুদ >>

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থী ও সমমনা দলগুলোর ঘোষিত ১১ দলের জোটের আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কয়েক সপ্তাহ ধরে “শিগগির ঘোষণা আসছে” এমন আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সেই ‘শিগগির’ আর শেষ হচ্ছে না। এতে জোটভুক্ত দলগুলোর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

যখন বিএনপি ও তাদের মিত্ররা প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠে নেমে পড়েছেন, তখন অনেক আসনে ১১ দলের সম্ভাব্য প্রার্থী এখনো অনিশ্চিত। ফলে প্রচারণা, সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও ভোটার যোগাযোগে পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্ষোভ ও বিভ্রান্তিতে তৃণমূল

বারবার আশ্বাস দিয়েও তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ায় জোটভুক্ত দলগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব, পরিসংখ্যান ও সম্ভাব্য আসন বণ্টনের তালিকা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, এসবই অনুমাননির্ভর—চূড়ান্ত কিছু হয়নি।

কীভাবে শুরু, কোথায় জটিলতা

জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল কয়েক মাস আগে ‘এক বাক্স নীতি’তে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়—প্রতি আসনে একটি দল লড়বে, শরিকরা প্রার্থী দেবে না। কথা ছিল মনোনয়নপত্র জমার আগেই আসন বণ্টন চূড়ান্ত হবে।

কিন্তু আসন বণ্টন নিয়ে গড়িমসি শুরু হলে সংকট তৈরি হয়। শরিকদের অভিযোগ, জামায়াত বিষয়টি দীর্ঘায়িত করেছে এবং তাদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই নতুন করে আরও তিনটি দল যুক্ত করেছে। এতে আগের শরিকদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়।

অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন

জোটের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেন, “শুরুতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে সব দলের দাবি মেটানো খুব কঠিন। কোথাও একাধিক দলের শক্তিশালী প্রার্থী আছে—কাকে বাদ দেব, সেটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।”

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, কিছু আসন নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে শিগগির সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, কয়েকটি আসনে নিরপেক্ষ জরিপের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

মুফতী ফয়জুল করীমের সংশয়

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম প্রকাশ্যে এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইসলামকে ক্ষমতায় আনার নীতির বাইরে গিয়ে কেউ যদি এটাকে রাজনৈতিক সিঁড়ি বানায়, তাহলে তা মারাত্মক ভুল হবে।

তিনি আরও বলেন, শরিয়াহবিরোধী অবস্থান নিলে ইসলামী ঐক্য টেকসই হয় না।

আসন বণ্টন নিয়ে দ্বন্দ্ব

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত এক বণ্টনে ইসলামী আন্দোলনকে ৩৫–৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি, খেলাফত মজলিসকে ১১টি আসন দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে ইসলামী আন্দোলনের একাংশ অসন্তুষ্ট হয়।

অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা বলছেন, কিছু দলের দাবি বাস্তবতার বাইরে।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এর আগেই সমঝোতা না হলে মাঠে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, ১১ দলের জোটে সমঝোতার চেষ্টা চলছে, তবে এখনো চূড়ান্ত নয়। আলোচনা চলমান থাকলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হবে—এই সংকট সমাধানে পৌঁছাবে, নাকি জোট রাজনীতিতে নতুন বিভাজনের জন্ম দেবে।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222