হাসান আল মাহমুদ >>
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রায়পুরা থেকে প্রার্থী হয়ে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকা শিল্পী বদরুজ্জামান শেষ মুহূর্তে এসে হতাশা ও দোলাচলের কথা প্রকাশ করেছেন। নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তিনি সরাসরি শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে বদরুজ্জামান বলেন, ‘২৪-এর অভ্যুত্থান’-পরবর্তী সময়ে দেশে ইসলামের পক্ষে একটি শক্তিশালী গণজোয়ার তৈরি হয়েছিল। দুই বড় রাজনৈতিক দলের বাইরে সাধারণ মানুষের চিন্তা ও চেতনায় নতুন এক আশার সঞ্চার হয়। সেই আশারই একজন সারথি হয়ে তিনি রায়পুরায় জোরেশোরে কাজ শুরু করেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমিয়ে দিয়ে তিনি এই নতুন রাজনৈতিক ভাবনার প্রতি মনোনিবেশ করেন। ‘সম্প্রীতির রায়পুরা’ গড়ার প্রত্যয়ে গ্রাম-শহর, পাড়া-মহল্লায় হেঁটে হেঁটে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, শুনেছেন তাদের প্রত্যাশা, কষ্ট ও না বলা কথাগুলো।
এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই দল-মত নির্বিশেষে রায়পুরায় একটি স্লোগান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি— “রায়পুরায় এবার হাতপাখা, ইনশাআল্লাহ।”
তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তিনি উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। বদরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই জোটের রাজনীতি পছন্দ করে। অতীত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রায় সব বড় রাজনৈতিক শক্তিই জোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে বা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। জোটের রাজনীতি জনমনে আলাদা উত্তেজনা ও প্রত্যাশা তৈরি করে।
বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের পাশাপাশি নতুন করে আরেকটি নির্বাচনী জোট আত্মপ্রকাশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্ভবত এই দুই জোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এতে সাধারণ মানুষও বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে।
তবে রায়পুরার প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন বলেও মত দেন বদরুজ্জামান। দীর্ঘদিন নিয়মিত কাজ করার ফলে এখানে তার একটি বড় শুভাকাঙ্ক্ষী মহল তৈরি হয়েছে। কিন্তু নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার দল কোনো জোটের অংশ না-ও হতে পারে— এমন আশঙ্কাও তুলে ধরেন তিনি।
এই অবস্থায় তিনি শেষ মুহূর্তে এসে নিজের অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে বিনীতভাবে প্রশ্ন রেখেছেন—“আমার বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ কী?”
রাজনৈতিক অঙ্গনে বদরুজ্জামানের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি ও পরামর্শ চাওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করেছে।
হাআমা/
