তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বরেণ্য নাগরিক প্রতিনিধি এম হাফিজ উদ্দিন খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে এই প্রবীণ ব্যক্তিত্ব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও জনকল্যাণে হাফিজ উদ্দিন খানের অবদান অনস্বীকার্য। একজন অত্যন্ত সৎ, মেধাবী এবং কর্তব্যপরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ড. ইউনূস মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে উল্লেখ করেন যে, প্রশাসনিক কাজে হাফিজ উদ্দিন খানের সততা ও নৈতিকতার যে উচ্চমান ছিল, তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তার ভূমিকা জাতি দীর্ঘকাল কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।
ব্যক্তিগত স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এম হাফিজ উদ্দিন খান কেবল একজন সহকর্মীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন আমার প্রিয় সহপাঠী ও পরম বন্ধু। দীর্ঘদিনের পথচলায় তার প্রজ্ঞা, মানবিক মূল্যবোধ এবং অকুতোভয় স্পষ্টভাষিতা আমাকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত ও সমৃদ্ধ করেছে। তার চলে যাওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন বিশ্বস্ত বন্ধু ও অকৃত্রিম শুভাকাঙ্ক্ষীকে হারালাম।
উল্লেখ্য, এম হাফিজ উদ্দিন খান কর্মজীবনে ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। বিশেষ করে ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি তার দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
টিএইচএ/
