স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু করছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবস গত বুধবার এই আবেদন জমা দেওয়ার পর আগামী সোমবার থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে শুরু হতে যাওয়া সিডিপির বার্ষিক প্লেনারি সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
গত ১০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাঠানো এক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের মধ্যে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানানো হলেও, বর্তমান সরকারের আকস্মিক এই অবস্থানে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সিডিপির সদস্য ও এনহান্সড মনিটরিং মেকানিজমের (ইএমএম) প্রধান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, বাংলাদেশের এই ‘ক্রাইসিস বাটন’ ক্লিক করার বিষয়টি সভায় গুরুত্বের সাথে আলোচিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণত অভাবিত ও নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত প্রাকৃতিক বা রাজনৈতিক সংকটের ক্ষেত্রে এমন আবেদন বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংকটের ধরণ ও গভীরতা কতটুকু, তা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের আলোকে যাচাই করা হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে পাঠানো চিঠিতে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানাবিধ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, করোনা পরবর্তী ধীরগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে বিগত সময়ের আর্থিক খাতের অনিয়ম, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা সংকটের ব্যয় নির্বাহের বিষয়গুলোকেও উত্তরণ পেছানোর যৌক্তিকতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ইআরডি যৌথভাবে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে যাতে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রস্তুতির সময় পাওয়া যায়।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরণের সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ে এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতগুলো শুল্কমুক্ত সুবিধা হারিয়ে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। তবে সিডিপির এই বৈঠক থেকে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে না; বরং সরকারের আগের এবং বর্তমান বক্তব্যের বৈপরীত্য বিশ্লেষণ করে মূল্যায়নের একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। নেপাল ও লাওস একই পাইপলাইনে থাকলেও তারা সময় বাড়ানোর কোনো আবেদন করেনি, যা বাংলাদেশের আবেদনটিকে আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে পর্যালোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
টিএইচএ/
