নিজাম উদ্দিন স্বাধীন ( স্টাফ রির্পোটার)>>> ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুততম সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি নেতারা।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব সিটির মেয়াদ আগে শেষ হবে সেখানে আগে নির্বাচন হবে, যে তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম। রাজধানী ঢাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না বিএনপি। ফলে হেভিওয়েট, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতাদেরই প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটির হাই কমান্ড।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও দলীয় হাই কমান্ডের গুঞ্জনে এগিয়ে রয়েছেন তাবিথ আউয়াল। গত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকেই ভোটের মাঠে সুবিধাজনক মনে করছে দলের একটি অংশ।
তবে উত্তর সিটিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় আছেন ঢাকা-১৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। বর্তমানে তিনি উত্তর সিটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অনেকেই মনে করছেন তাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক এম কফিল উদ্দিন আহমেদের নামও সম্ভাব্য তালিকার সামনের সারিতে রয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মনোনয়ন লড়াই বেশ জমে উঠেছে। এই সিটিতে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী সরকারের আমলে সাড়ে চারশ’র বেশি মামলার আসামি হওয়া এবং রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্বের কারণে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়র পদে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কাজের মাধ্যমে জনআস্থা অর্জন করে তিনি আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।
মনোনয়ন দৌড়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও গত সোমবার তিনি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচন করার ঘোষণা দেন।
এছাড়া মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং দক্ষিণ সিটির সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন। বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী আমলে মামলা-হামলার শিকার এবং রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্বের কারণে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একাধিক ওয়ার্ডের আলোচনার কেন্দ্রবৃন্দুতে রয়েছেন তিনি।
দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যোগ্যতাসম্পন্ন ও জনপ্রিয় নেতাদেরই মনোনয়ন দেবেন। ক্লিন ইমেজের প্রার্থীরাই এবার অগ্রাধিকার পাবেন বলে দলীয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।
টিএইচএ/
