ইরানজুড়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির বেশ কিছু কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের তদারককারী সংস্থা সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে নিজেদের এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি ওয়াশিংটন।
সেন্টকমের দেওয়া তথ্যমতে, গত সোমবার পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ১ হাজার ২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং দেশটির ১১টি নৌ-জাহাজ ধ্বংস করেছে। সংস্থাটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, গত সপ্তাহান্তে কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলায় এ পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের জাম ও দির শহরে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আইআরজিসির বিমান ও নৌবাহিনীর পাঁচজন সদস্য নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং বিস্তৃতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সংঘাত এখনই থামছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানের জন্য প্রাথমিকভাবে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় ধরা হলেও ওয়াশিংটন প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তেহরানও আঞ্চলিকভাবে এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
