মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সাশ্রয়ী ও কার্যকর করতে ইউক্রেনের তৈরি বিশেষ ইন্টারসেপ্টর বা ‘শাহেদ-হান্টার’ ড্রোন কেনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো। মূলত ইরানি শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করতে ইউক্রেন যে কম খরচের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, সেটির রণক্ষেত্র সক্ষমতা যাচাই করেই এই আগ্রহ দেখাচ্ছে দেশগুলো।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেন দ্রুততম সময়ে নিজস্ব ড্রোনভিত্তিক প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে। দেশটি এখন এই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। বিনিময়ে কিয়েভ এমন কিছু উন্নত ও ভারী মারণাস্ত্র পেতে চায়, যা তারা নিজস্ব কারখানায় তৈরি করতে সক্ষম নয়। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলো বর্তমানে যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, তার প্রতিটির দাম কয়েক লাখ ডলার। এর বিপরীতে ইউক্রেনের তৈরি ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো অত্যন্ত কম খরচে এবং নিখুঁতভাবে শত্রুপক্ষের ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম। ফলে যুদ্ধের খরচ কমাতে এই প্রযুক্তি নতুন এক বৈপ্লবিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ইউক্রেনীয় ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্কাইফল জানিয়েছে, তাদের প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে ৫ থেকে ১০ হাজার ড্রোন তারা আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করতে প্রস্তুত। এমনকি বিদেশি ক্রেতাদের সুবিধার্থে মাত্র তিন সপ্তাহের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের অস্ত্র রফতানির ওপর কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, তবে পশ্চিমা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যাপক চাহিদার মুখে ইউক্রেনীয় কোম্পানিগুলো এখন বিশ্ববাজারে প্রবেশের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্স এক্সপ্রেসের প্রধান সম্পাদক ওলেহ কাটকভ মনে করেন, অন্যান্য অনেক দেশ ইন্টারসেপ্টর ড্রোন তৈরির চেষ্টা করলেও ইউক্রেন বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে। কারণ তাদের এই প্রযুক্তি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এবং তাদের ব্যাপক হারে উৎপাদনের শক্তিশালী সক্ষমতা রয়েছে।
টিএইচএ/
