মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। দাম বাড়ার আশঙ্কায় সাধারণ ভোক্তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনতে শুরু করায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলার পর্যায় থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের মজুত করার প্রবণতায় বাজারে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা ও বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল কার্যত পাওয়া যাচ্ছে না।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ছোট ও মাঝারি দোকানে এক বা দুই লিটারের বোতলও সীমিত পরিমাণে মিলছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, আগে যেখানে প্রতিদিন ৮-১০ কার্টন তেল আসত, এখন ডিলাররা মাত্র ২-৩ কার্টন সরবরাহ করছেন। কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকানেও খুচরা বিক্রেতাদের ভিড় থাকলেও চাহিদামতো তেল মিলছে না। মগবাজার এলাকার একজন বিক্রেতা জানান, আগে চার কার্টন তেল পেলেও এখন ডিলাররা এক কার্টনের বেশি দিচ্ছেন না। সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি ডিলার পর্যায়ে তেলের দামও কিছুটা বেড়েছে। পাঁচ লিটারের বোতলের গায়ের মূল্য ৯৫৫ টাকা হলেও খুচরা বিক্রেতাদের এখন ৯৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে, যা আগে ছিল ৯৩০ টাকা। এতে খুচরা পর্যায়ে মুনাফা কমে যাওয়ায় অনেক দোকানদার তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।
বোতলজাত তেলের সংকটের সুযোগে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বর্তমানে খোলা সয়াবিন ১৯৮-২০০ টাকা এবং পাম তেল ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে তেল উৎপাদনকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও সিটি গ্রুপের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এলসি জটিলতায় কিছু ছোট কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ হওয়া এবং রমজানকে সামনে রেখে কিছু অসাধু চক্রের মজুত করার প্রবণতাকে তারা এই সংকটের কারণ হিসেবে দেখছেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ জানিয়েছেন, কৃত্রিম এই সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিএইচএ/
