ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ ধর্মগুরুদের জন্য ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রম আগামী ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ।
রোববার (৮ মার্চ) মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মাসিক ৮ হাজার টাকা। মন্দিরের ক্ষেত্রে পুরোহিত ৫ হাজার ও সেবাইত ৩ হাজার টাকা, বৌদ্ধ বিহারের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ ৫ হাজার ও উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা এবং চার্চের ক্ষেত্রে পালক বা যাজক ৫ হাজার ও সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এছাড়া প্রতি বছর প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সংশ্লিষ্টদের জন্য ২ হাজার টাকা করে বিশেষ বোনাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে সরকারি বা বিদেশি সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না।
আর্থিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই সম্মানী প্রদানের জন্য ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু হলে প্রতি অর্থবছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন পড়বে, যা আগামী ৪ বছরে ধারাবাহিকভাবে প্রদান করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সকল সম্মানী সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপাসনালয়কে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে এবং ধর্মীয় দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া তাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করবে এবং একটি স্থায়ী চাকরি বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
টিএইচএ/
