ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রপতি যখন তার ভাষণ শুরু করেন, তখন বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
ওয়াকআউট শেষে সংসদ ভবনের বাইরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা অনেক আশা নিয়ে এই সংসদে এসেছিলাম। কিন্তু যিনি খুনের সহযোগী ছিলেন, তার ভাষণ আমরা শুনতে চাই না। রাষ্ট্রপতি গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত একটি খুনের ব্যাপারেও অভিভাবক হিসেবে কোনো ব্যবস্থা নেননি। তাই এই সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার তার নেই।” ডা. শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি তিনটি সুনির্দিষ্ট অপরাধ করেছেন এবং তিনি সংস্কার পরিষদের সভা না ডেকে দেশের ৭০ ভাগ জনগণকে অপমান করেছেন।
এর আগে বেলা ১১টায় অধিবেশনের শুরুতে পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। তারা হলেন, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (ঢাকা-৮), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩), ড. আব্দুল মঈন খান (নরসিংদী-২), মো. মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা-৬) এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২)। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তারা অগ্রবর্তিতা অনুযায়ী সংসদ পরিচালনা করবেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সকল সংসদ সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অধিবেশনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পিকার ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
টিএইচএ/