ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র সংঘাতের মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধী মিসাইলের ভয়াবহ সংকটে পড়েছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সেমাফর’ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগেই ইসরায়েল তাদের এই সংকটের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে। মূলত ২০২৫ সালের ‘১২ দিনের যুদ্ধে’ বিপুল পরিমাণ মিসাইল ব্যবহার করায় ইসরায়েলের মজুত আগে থেকেই সীমিত হয়ে পড়েছিল, যা বর্তমান সংঘাতে তাদের প্রতিকূল অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই ঘাটতির বিষয়টি তারা গত কয়েক মাস ধরেই পর্যবেক্ষণ করছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক ও বহুমুখী হামলার কারণে ইসরায়েলের অ্যারো (Arrow) এবং ডেভিডস স্লিং (David’s Sling)-এর মতো দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার বোমা’ বা গুচ্ছ গোলাবারুদ ব্যবহার শুরু করায় ইসরায়েলি ইন্টারসেপ্টরগুলো দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ক্লাস্টার বোমাগুলো আকাশেই অসংখ্য ক্ষুদ্র বোমায় বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা মোকাবিলা করতে ইসরায়েলি বাহিনীকে সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ৫০টিরও বেশি দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতে ঘাটতি না থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইসরায়েল বর্তমানে এই সংকট উত্তরণে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ব্যবহারসহ বিকল্প প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দিলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের কোনো কার্যকর বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
টিএইচএ/
