মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব: ভারতের রেস্তোরাঁ ও গৃহস্থালিতে জ্বালানি–সংকট

by naymurbd1999@gmail.com

ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রভাবে ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের রান্নার প্রয়োজনীয় এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস)-এর প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

এই জ্বালানি–সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানি তেলের পাম্পেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশজুড়ে রেস্তোরাঁ ও স্ট্রিট ফুডপ্রেমীদের জীবনেও অস্বস্তি তৈরি করেছে। জয়পুরের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘গুলাবজি চা’-এর মালিক চেতন সিং জানিয়েছেন, ‘বান-মাখন’ এবং শিঙাড়ার মতো জনপ্রিয় আইটেমগুলো এলপিজি সংকটের কারণে মেনু থেকে বাদ দিতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

দিল্লি ও মুম্বাইয়ের ‘বেনে দোসা’ রেস্তোরাঁর কর্ণধার অখিল আইয়ারও জানিয়েছেন, গ্যাসের শেষ সিলিন্ডার শেষ হওয়ার পর তাদের দোসা বিক্রি বন্ধ করতে হয়েছে। আইয়ার বলেন, ‘আমরা ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করছি, কিন্তু আগের মতো স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের আগুনের বিশেষ তাপ ও ফ্লেভার ছাড়া রান্নার আসল স্বাদ পাওয়া যায় না।’

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশীয় এলপিজি উৎপাদন ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া, দেশজুড়ে মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১৫ হাজারের বেশি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী সংকট অব্যাহত থাকলে ভারতীয় রেস্তোরাঁগুলো বিকল্প রান্নার পদ্ধতি অনুসন্ধান করতে বাধ্য হতে পারে। এর মধ্যে কিছু রেস্তোরাঁ কাঠ পোড়ানোর মতো সনাতন পদ্ধতির কথাও ভাবছে। তবে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কায় এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

এনআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222