মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে বাদ দিয়ে একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর বহিরাগত শক্তির প্রভাব কমাতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরান।
ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক ভিডিও বার্তায় এই জোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ‘এখন সময় এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই নেওয়ার এবং বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর।’ তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা এই অঞ্চলে একটি ‘নতুন পর্যায়’ তৈরি করেছে, যা মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জোলফাঘারি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ধর্মীয় ও আঞ্চলিক বন্ধনের ভিত্তিতে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরান এখন কৌশলগতভাবে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই জোট বাস্তবে কতটুকু আলোর মুখ দেখবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তা সত্ত্বেও ইরানের এই আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক নিরাপত্তা কাঠামোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
টিএইচএ/
