পবিত্র ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের টানা ছুটি ঘিরে পর্যটন নগরী রাঙামাটিতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় জমেছে। মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি থেকে শুরু করে কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলরাশি; সবখানেই এখন পর্যটকদের কলতান। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার লম্বা ছুটিতে রাঙামাটিতে লাখো পর্যটকের সমাগম হয়েছে। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে রাঙামাটির আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক, রাঙাদ্বীপসহ আশপাশের বিনোদন স্পটগুলো। যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে পর্যটকরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমনের পাশাপাশি বরকলের সুবলং ঝরনা ও কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন রিসোর্টে ভিড় করছেন। পর্যটকদের এই বিশাল চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে আবাসিক হোটেল ও মোটেল কর্তৃপক্ষ।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, ঈদের আগের দিন থেকেই পর্যটকদের সমাগম শুরু হয়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসসহ টানা তিন দিনের সরকারি ছুটিতে এই ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। শহরের সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ আবাসিক হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ কক্ষ আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত বুকিং রয়েছে। পর্যটন কমপ্লেক্সের মনোরম ঝুলন্ত সেতু ও জেলা পুলিশের পলওয়েল পার্কে বাইরের পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বিনোদনপ্রেমীদেরও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
পর্যটন কমপ্লেক্সের নৌযান ঘাটে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণের জন্য ৪০-৫০টি ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে নৌভ্রমণ উপভোগ করছেন। তবে চাহিদার তুলনায় আবাসন সুবিধা কম হওয়ায় অনেক পর্যটককে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করতে হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, এবারের দীর্ঘ ছুটিতে রাঙামাটিতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক এসেছেন। ঝুলন্ত সেতুতে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার পর্যটকের উপস্থিতি রেকর্ড করা হচ্ছে। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে তারা নিরলস কাজ করছেন। অন্যদিকে সাজেক কটেজ-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ জানিয়েছেন, মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালিতেও পর্যটকদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সেখানকার রিসোর্ট ও কটেজগুলো আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ বুকিং রয়েছে। সব মিলিয়ে এই টানা ছুটি রাঙামাটির পর্যটন ব্যবসায় নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টিএইচএ/
