পাকিস্তানের পর এবার ইরানি স্থলবাহিনী শুরু করতে যাচ্ছে অপারেশন ‘বুনিয়ানুন মারসুস’

by Abid

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নতুন ও ভয়াবহ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। তেহরানের সামরিক কৌশল এখন আর শুধু রক্ষণাত্মক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই; তারা ‘আঘাতের বদলে আঘাত’ এবং ‘ক্ষতের বদলে ক্ষত’ দেওয়ার এক বিধ্বংসী রণকৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক গতিবিধি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসন্ন আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের জন্য তারা এমন এক বহুমুখী ও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা সাজিয়েছে, যা আগের যেকোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ হতে পারে। ইরানের এই নতুন সামরিক পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো ‘অফেন্সিভ ডিফেন্স’ বা আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা। এর অর্থ হলো, শত্রু যদি ইরানের সার্বভৌমত্বের দিকে হাত বাড়ায়, তবে ইরান শুধু নিজের সীমানায় বসে রক্ষণভাগ সামলাবে না, বরং শত্রুর ডেরায় ঢুকে পাল্টা আঘাত হানবে।

এবারের লড়াইয়ে ইরানের লক্ষ্যবস্তু শুধু ১২০০ থেকে ১৬০০ কিলোমিটার দূরের ইসরায়েলি ভূখণ্ডই নয়, বরং সীমান্তের কাছে থাকা শত্রুপক্ষের সব সামরিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়েছে। আগের যুদ্ধগুলোতে আকাশপথ ও মিসাইল শক্তির ওপর বেশি জোর দেওয়া হলেও, এবারের রণকৌশলে মূল স্তম্ভ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি-র (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর) স্থলবাহিনী বা গ্রাউন্ড ফোর্স। কোরআনের ভাষায় ‘বুনিয়ানুন মারসুস’ বা সিসাঢালা প্রাচীরের মতো তারা সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে। এই বাহিনীর বিশেষত্ব হলো, উচ্চপর্যায়ের কমান্ড ছাড়াই প্রতিটি ইউনিট স্বাধীনভাবে অপারেশন চালাতে সক্ষম। বিশেষ করে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পশ্চিম সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা বিদেশি প্রক্সি গোষ্ঠীর নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রুখতে তারা এখন ‘ফিঙ্গার অন দ্য ট্রিগার’ বা ট্রিগারে আঙুল রেখে চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

সম্প্রতি পারস্য উপসাগরের দ্বীপগুলোতে আইআরজিসি যে বিশাল সামরিক মহড়া চালিয়েছে, তা কোনো সাধারণ অনুশীলন ছিল না। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ছিল মূলত আগ্রাসনকারীদের ‘পা ভেঙে দেওয়ার’ একটি বাস্তব মহড়া। এই মহড়ার মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে যে, তারা শুধু কাগজ-কলমে পরিকল্পনা করেনি, বরং বাস্তব ভূমিতে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রিহার্সালও সেরে ফেলেছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শত্রু যদি সরাসরি সীমান্ত লঙ্ঘন নাও করে, তবুও যদি তারা ইরানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেই নিরাপত্তা বলয় রক্ষায় সীমান্তের ওপারে গিয়েও আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না তেহরান। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অখণ্ডতা রক্ষায় ইরানের প্রতিটি সেনা এখন পূর্ণ সমর প্রস্তুতিতে রয়েছে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222