সদ্য সমাপ্ত ঈদযাত্রা কেন্দ্রীক গত ১৫ দিনে সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরেন। ঈদপূর্ব ও ঈদপরবর্তী যাতায়াতের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে কেবল সড়কেই নয়, রেল ও নৌপথেও উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত এবং ২২৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮ জন এবং আহত হয়েছেন ১৯ জন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জন। সড়ক, রেল ও নৌ এই তিন পথ মিলিয়ে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৮ জন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। মোট ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৫ জন, যা মোট নিহতের বড় একটি অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ২১.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় মহাসড়কগুলোতেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণেই মৃত্যুর মিছিল থামানো যাচ্ছে না।
পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, এবারের ঈদে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের একচ্ছত্র প্রভাবের কারণে ভাড়া নৈরাজ্য চরমে পৌঁছেছিল। যার ফলে সড়ক দুর্ঘটনা এবং পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা আগের দুটি ঈদের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। সঠিক তদারকি ও জবাবদিহিতা না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে এবং ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
টিএইচএ/
