বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধীদল। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এর বিষয়ে যথাযথ প্রতিকার না পাওয়া এবং আইনমন্ত্রী কর্তৃক বিরোধীদলীয় নেতাকে ‘মিসকোট’ বা ভুলভাবে উদ্ধৃত করার প্রতিবাদে তাদের এই ওয়াকআউট।
আজ বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে এই ঘটনা ঘটে।
ওয়াকআউটের আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রতিকার চেয়েছিলাম। বিষয়টি কোনো বিশেষ দলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। নির্বাচনের আগে সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সবাই যে বিষয়ে একমত হয়েছিলাম এবং যার পক্ষে আমরা দেশব্যাপী প্রচার চালিয়েছি, সেই জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিফলন বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না। দেশবাসীর রায়ের এই অবমূল্যায়ন আমরা বিরোধী দলে বসে মেনে নিতে পারি না। এর প্রতিবাদেই আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’ এ সময় তিনি আইনমন্ত্রী কর্তৃক তাকে ‘মিসকোট’ বা ভুলভাবে উপস্থাপনের বিষয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধীদলীয় নেতাকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা, ওয়াকআউট করা আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে একটু পরেই একটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হতে যাচ্ছে, যেখানে আপনারা আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন। আমার অনুরোধ হলো আপনারা প্রস্তাবটি শুনুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।’ স্পিকারের এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে ডা. শফিকুর রহমান পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, মূল বিষয়কে চাপা দেওয়ার জন্য অন্য একটি নোটিশ সামনে আনা হয়েছে এবং সেটি তারা সংসদ কক্ষে শুনেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ওই নোটিশটি হাউসে পড়া হয়েছে, যা তারা শুনেছেন এবং বুঝেশুনেই এই ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পরবর্তীতে স্পিকার আবারও অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে, নোটিশটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপনই হয়নি, তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা শ্রেয়। তবে বিরোধীদলীয় নেতা তার সিদ্ধান্তে অটল থেকে স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সকল বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যসহ সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে বিরোধী দলের এই ওয়াকআউট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
টিএইচএ/
