মহরম হাসান মাহিম (খুলনা প্রতিনিধি)
খুলনা বিভাগে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক ও দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামানের একের পর এক অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায় এই ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খুলনায় এনসিপির ডিডকৃত একটি কার্যালয় রাতারাতি বিএনপির একটি সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ওই কার্যালয় “আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ” নামে পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ও দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর ব্যানার টানানো হয়েছে।
সংগঠনের একাধিক সূত্র জানায়, খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি ইতোমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিছু জেলায় সংগঠনের কাঠামো প্রায় ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট নেতারা সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি।
এছাড়া ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের উপেক্ষা করে সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি তৃণমূলের। এমনকি কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
সবশেষে এস এম আরিফুর রহমান মিঠুকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এনসিপির কার্যালয় হয়েও সেটিকে “আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ”-এর মহানগর কার্যালয় হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতারা। তাদের দাবি, সংগঠনের আদর্শ ও কাঠামো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খুলনা বিভাগে এনসিপি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা মহানগরের এক সংগঠক বলেন, “সাংগঠনিকভাবে এনসিপি খুলনায় অকার্যকর হয়ে পড়ছে। ডিডকৃত অফিস এখন বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হচ্ছে, যা সংগঠনের জন্য উদ্বেগজনক।”
এনআর/
