ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ দ্বিতীয় পাইলটকে নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই সফল উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার প্রথম পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দ্বিতীয় জন নিখোঁজ ছিলেন, যাকে নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ইরান সরকার ওই পাইলটকে আটকে রাখার লক্ষ্যে তার সন্ধানদাতার জন্য বিশেষ পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় জানান, উদ্ধার হওয়া ক্রু কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হলেও বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। এই অভিযানকে মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম ‘ভয়ঙ্কর ও দুঃসাহসিক’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প দাবি করেন, তার সরাসরি নির্দেশনায় ডজনখানেক হেলিকপ্টার ও বিধ্বংসী মারণাস্ত্র নিয়ে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। পুরো অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানে মার্কিন বাহিনীকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সরাসরি সংঘাতের মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে অন্তত ৩ জন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এক অভিনব কৌশল ও ‘অপতথ্যের’ আশ্রয় নিয়েছিল। পাইলটকে ইরানের মূল ভূখণ্ডের গভীরে পাওয়া গেছে বলে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে প্রায় একদিনের বেশি সময় পর তাকে উদ্ধার করা হয়। ইউএস এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন সূত্রে জানা গেছে, পাইলটের অবস্থান শনাক্ত করার পর তাকে সুরক্ষায় চালকবিহীন ‘রিপার ড্রোন’ ব্যবহার করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া পাইলট জানান, বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর তিনি একটি নিরাপদ স্থানে আত্মগোপন করেছিলেন এবং মার্কিন উদ্ধারকারী দলের অপেক্ষায় ছিলেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত আধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানটি কীভাবে ইরানের মাটিতে ভূপাতিত হলো, সে বিষয়ে পেন্টাগন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে মার্কিন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন ক্যান্টওয়েল জানিয়েছেন, ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর গত ২০ বছরে এই প্রথম শত্রুপক্ষের হামলায় কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটল।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বর্তমানে উদ্ধারকৃত পাইলটকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী ওই এলাকায় তাদের নজরদারি আরও জোরদার করেছে।
টিএইচএ/
