ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সরকারি নথিপত্রে ব্যবহৃত বিদেশি শব্দসমূহ পর্যালোচনা এবং সেগুলোর পরিবর্তে উপযুক্ত স্থানীয় শব্দ প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দিয়ে নতুন একটি ফরমান জারি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা বা আমিরুল মু’মিনীন শাইখুল হাদিস মাওলানা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা।
রোববার (৫ এপ্রিল) আরিয়ানা নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আমিরের এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় দাপ্তরিক ভাষা থেকে অ-স্থানীয় পরিভাষা দূর করে আফগান ভাষাগত ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখা।
মাওলানা আখুন্দজাদার জারি করা এই ফরমানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবহৃত বিদেশি পরিভাষাগুলো মূল্যায়ন ও সংশোধনের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির সভাপতিত্ব করবে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়। কমিটিতে বিচার মন্ত্রণালয় ছাড়াও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়াও আফগানিস্তানের বিজ্ঞান একাডেমি এবং প্রশাসনিক বিষয়ক দপ্তরের অভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
ফরমানের দ্বিতীয় ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের সকল সরকারি দপ্তরকে তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক ও আইনি নথিপত্রে ব্যবহৃত বিদেশি শব্দগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করতে হবে। এরপর সেই শব্দগুলোর প্রস্তাবিত বিকল্প স্থানীয় শব্দ এবং প্রয়োজনীয় যৌক্তিক ব্যাখ্যাসহ একটি নির্ধারিত কাঠামোতে কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। তৃতীয় ধারায় বলা হয়েছে, গঠিত কমিটি প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করবে। তারা ইসলামি শরিয়াহ এবং আফগান ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প শব্দটি চূড়ান্ত করবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা নেওয়ার ক্ষমতাও এই কমিটির থাকবে।
চতুর্থ ধারায় জানানো হয়েছে, আমিরের এই ফরমান জারির মুহূর্ত থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে। মূলত আফগান সমাজের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে এবং দাপ্তরিক কাজে ভিনদেশি ভাষার প্রভাব কমিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশটির প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টিএইচএ/
