জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদ।
রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের এই সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তবে এদিন জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় শুনানি আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষদর্শী, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত ব্যক্তিসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, এবং নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কাজ চলছে এবং তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওবায়দুল কাদের সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং দলীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। মামলার অন্য আসামিরাও পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে হত্যাকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘অক্সিলিয়ারি ফোর্স’ হিসেবে সরাসরি আক্রমণে অংশ নিয়ে ছাত্রজনতার ওপর নির্মম নিষ্ঠুরতা চালিয়েছে। কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির (নেতৃত্বের দায়) কারণে ওবায়দুল কাদেরসহ এই শীর্ষ নেতাদের আসামিভুক্ত করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, আসামিরা আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা পরিচালনা এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণেও তাদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে মনে করছে প্রসিকিউশন।
টিএইচএ/
