রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লোডশেডিংয়ের কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, তাদের স্বজন এবং কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম এমনকি কখনো সিজার কার্যক্রমও মাঝপথে থেমে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে। নারী ও শিশু ওয়ার্ড এবং জরুরি বিভাগেও লোডশেডিংয়ের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে ফ্যানের বাতাস যেন এক অধরা স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও সেটি সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় তেল বা অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্যান বা আলো কোনোটিই চালু রাখা সম্ভব হয় না। এতে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। জেনারেটর বা সৌরশক্তির মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সূচনা মনোহরা বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে আমার অফিসেও ফ্যান চলে না। প্রচণ্ড গরমে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিজের টাকা দিয়ে তেল কিনে জেনারেটর চালু রেখে কোনোভাবে ওষুধ ও রোগী ভর্তির ব্যবস্থা চালু রাখছি। শুধু রোগী নয়, কর্মরত সবাই চরম কষ্টে কাজ করছেন।
পুঠিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আহসানুল করিম বলেন, আলাদাভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন নেই। তবে আলাদা লাইন দেওয়ার জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে, ভবিষ্যতে কী হয় দেখা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসে। সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
এদিকে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিম জানান, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
হাআম/
