শিক্ষার্থীদের রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে পাকিস্তানী মাদরাসাগুলো, কেন পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ?

by Abid

৩৬নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নত শিক্ষা পরিবেশের বিপরীতে বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোর সীমাবদ্ধতা ও হীনম্মন্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে। সম্প্রতি করাচির ঐতিহ্যবাহি দ্বীনি বিদ্যাপিঠ জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বান্নুরি টাউনের ইফতা বিভাগে ভর্তি হওয়া বাংলাদেশি এক শিক্ষার্থীর সূত্রে সেখানের অভাবনীয় ব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। তথ্যমতে, করাচির বান্নুরি টাউনে ইফতা বিভাগে উত্তীর্ণ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাসিক সাড়ে সাত হাজার পাকিস্তানি রুপি ভাতা প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তিন বেলা মানসম্মত খাবার, শীতবস্ত্র এবং লেপ-কম্বল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। এমনকি শিক্ষার্থীদের কাপড় ধোয়া ও ইস্ত্রি করার মতো ব্যক্তিগত কাজগুলোও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়।

বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যমতে, করাচির এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নত চিকিৎসা সেবায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাঁচ লক্ষ রুপি ব্যয় করেছে এবং প্রয়োজনে এই অঙ্ক ৩০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ তা বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

এই ঘটনার বিপরীতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত হতাশাজনক। মাওলানা এনামুল হাসান ফারুকীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে দেশের আলেম সমাজ বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে পাকিস্তানের মাদ্রাসাগুলোর এই সক্ষমতা ও হৃদয়ের প্রশস্ততা সকলকে অবাক করেছে। শুধু তাই নয়, এ বছর ইফতা বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মূল্যবান কিতাব ‘ফতোয়ায়ে শামী’ হাদিয়া হিসেবে দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনে বিশাল সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

শিক্ষা ও তালিমের মানের ক্ষেত্রেও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। জামিয়া ইবনে আব্বাসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমাচ্ছে। বিপরীতে বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের এই পরিবেশ ও বৈশ্বিক শিক্ষার্থীর সমাগম নেই বললেই চলে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পার্থক্যের মূলে রয়েছে মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে মাদ্রাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারেও টান দেওয়া হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কর্তৃক বাবুর্চিকে ‘খাবার সুস্বাদু না করার’ নির্দেশ দেওয়ার মতো নেতিবাচক মানসিকতাও পরিলক্ষিত হয়, যাতে ছাত্ররা খাবার কম গ্রহণ করে। এই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও সক্ষমতার অভাব বাংলাদেশের কওমি অঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222