আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বেইজিং সফরকালে চীনকে জ্বালানি তেল রপ্তানির একটি বড় চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। সফর শেষ হওয়ার আগেই এই চুক্তি সই হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রথম দিনের বৈঠক শেষে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা চীনা জাহাজ টেক্সাস, লুইজিয়ানা এবং আলাস্কায় পাঠাতে যাচ্ছি। চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে আগ্রহী এবং এটি একটি বড় বিষয় হতে যাচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বাণিজ্যের মাধ্যমে টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের জ্বালানি খাত নতুন গতি পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের তেলের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চীন বর্তমানে জ্বালানি তেলের জন্য ব্যাপকভাবে ইরানের ওপর নির্ভরশীল। দেশটি প্রতি বছর ইরান থেকে প্রায় ৩১ থেকে ৩২ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা দীর্ঘ দিন ধরে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছেন যে, ইরান থেকে তেল ক্রয়, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানি এবং মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে বেইজিং তেহরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য তেল বাণিজ্য চুক্তি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে ইরান থেকে চীনের তেল আমদানির নির্ভরতা কমবে কি না এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরানের ওপর বেইজিংয়ের অবস্থান কেমন হবে, তা এখন দেখার বিষয়।
টিএইচএ/