বশির আহমেদ মোল্লা (নরসিংদী প্রতিনিধি): নরসিংদীর রায়পুরায় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুন্সি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নিহতের ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসী অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে উপজেলার হাঁটুভাঙা এলাকায় রায়পুরা থেকে নরসিংদী আঞ্চলিক সড়কের পাশে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা খুনিদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
এর আগে গত ২৩ মে রাতে উপজেলার হাঁটুভাঙা বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে রফিকুল ইসলাম মুন্সিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই রাতেই হামলাকারীরা দোকানের ভেতরে ঢুকে শাটার নামিয়ে দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারটি ক্ষোভ প্রকাশ করে। নিহত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুন্সি উপজেলার হাঁটুভাঙা এলাকার মৃত শাহারাজ খলিফার ছেলে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সিরামিক সামগ্রীর ব্যবসা করে আসছিলেন।
মানববন্ধনে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের স্ত্রী লিজা আক্তার বলেন, একজন সহজ-সরল মানুষকে একটি স্বাধীন দেশে দোকানের ভেতর ঢুকে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হলো। খুনিরা আমার চার কন্যা সন্তানকে এতিম করেছে, আমাকে বিধবা করেছে। অথচ এত দিনেও পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি এবং জড়িতদের কাউকেই ধরতে পারেনি। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বামীদের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নিহতের বড় মেয়ে বর্ষা আক্তারও তার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানায়।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুন্সি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য জোরদার তদন্ত চলছে। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয় থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সমন্বিতভাবে কাজ করছে। খুব দ্রুতই জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
টিএইচএ/
