৩৬নিউজ ডেস্ক: ১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি দেশের গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকারের নেওয়া গণমাধ্যমবিরোধী পদক্ষেপকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সব ধরনের কর্তৃত্ববাদ ও বাকশালের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারদের প্রত্যাখ্যান করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গ্রীন পার্টির আহ্বায়ক রিদওয়ান হাসান ও সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাকশাল সরকার দেশের মাত্র চারটি সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র রেখে বাকি সব সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বা অনুমোদন বাতিল করে দেয়। এর ফলে রাতারাতি হাজারো সাংবাদিক, মুদ্রাকর্মী ও সংবাদকর্মী কর্মহীন হয়ে চরম দুর্দশায় পড়েন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের চিন্তা, মতামত ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার সংকুচিত করার মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত সমাজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংস, বিরোধী মত দমন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এক ব্যক্তি ও এক দলের হাতে কেন্দ্রীভূত করার এক সর্বগ্রাসী রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ। ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ ছিল একই স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার ধারাবাহিকতা। রাজনৈতিক দলসমূহ বিলুপ্ত করা এবং ভিন্নমতকে অগ্রহণযোগ্য করে তোলার মাধ্যমে সেদিন রাষ্ট্র ও দলকে একীভূত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
গ্রীন পার্টির পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাকশালের সাংগঠনিক কাঠামো বিলুপ্ত হলেও তার রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। বাকশালের উত্তরাধিকার বহনকারী আওয়ামী লীগ পরবর্তী দশকগুলোতেও বহুবার সংবাদমাধ্যম, বিরোধী মত এবং নাগরিক স্বাধীনতার প্রতি চরম অসহিষ্ণু মনোভাব প্রদর্শন করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন কালো আইন প্রণয়ন, সাংবাদিক হয়রানি, গণমাধ্যমের ওপর প্রত্যক্ষ চাপ এবং মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত করার ঘটনা জাতিকে বারবার ১৯৭৫ সালের সেই অন্ধকার সময়ের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন যে, একটি সুস্থ রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য স্বাধীন সংবাদপত্র, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, বহুদলীয় রাজনীতি এবং অবাধ মতপ্রকাশ অপরিহার্য। প্রকৃত গণতন্ত্র কখনো একদলীয় চিন্তা বা নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের ওপর ভর করে টিকে থাকতে পারে না। সংবাদপত্রের কালো দিবসে গ্রীন পার্টি সেই সব সাহসী সাংবাদিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, যারা বাকশালের দমননীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। একই সঙ্গে দলটি সব ধরনের একদলীয় মানসিকতা, কর্তৃত্ববাদ ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে তাদের আপসহীন সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
টিএইচএ/
