আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি নয়াদিল্লির দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। একই সাথে দেশটির জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানায় নয়াদিল্লি, যার ফলে নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আফগানিস্তানের ভূখণ্ডের সুরক্ষায় ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আমরা আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলাম, যেখানে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা সেই মূল্যবান প্রাণহানির জন্য গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং একই সাথে আফগানিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি আমাদের জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি। তিনি আরও জানান, আফগানিস্তানের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ওষুধ, মানবিক সাহায্য পাঠানো এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন ভারতের চলমান সহযোগিতার অংশ। এই সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সিঙ্গাপুরের সাবেক রাষ্ট্রদূত বিলাহারি কাউসিকান পাকিস্তানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ সংকটের জন্য ভারত বা আফগানিস্তানের মতো প্রতিবেশীদের দায়ী করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, পাকিস্তানের মূল চ্যালেঞ্জগুলো দেশটির অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার মধ্যেই নিহিত। কাউসিকান বলেন, আপনি আপনার সব সমস্যার জন্য অন্যদের দোষারোপ করতে পারেন না। হ্যাঁ, পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান পরিস্থিতি সহজ করে না, তবে এটি মূল কারণ নয়। যে দেশ তার সমস্যার জন্য ক্রমাগত অন্যদের দোষারোপ করে, সে কখনোই তা কাটিয়ে উঠতে পারবে না।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান বারবার দাবি করে আসছে যে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাত এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড প্রতিবেশীসহ অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
টিএইচএ/
