মুরব্বিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে কান না দেয়ার আহ্বান বেফাকের

মজলিসে শুরার বৈঠক

by Fatih Work

মিডিয়ায় মুরব্বিদের বিরুদ্ধে কোন অপপ্রচারে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ।

রোববার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় নবনির্মিত ১১ তলা ভবনের বেফাক মিলনায়তনে এক বৈঠকে মজলিসে শুরার সদস্যবৃন্দ এ আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন
banner

বেফাক সভাপতি মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে বৈঠকে সারাদেশের দুই শতাধিক শুরা সদস্য, দেশের শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখ ও দ্বীনদার সুধীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

তারা বলেন, বেফাক সারাদেশের দ্বীনি শিক্ষার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাবিদগণের সংগঠন। ঐতিহ্যের দিক থেকে এমন শক্তিশালী ও অবিভক্ত প্রতিষ্ঠান খুব কমই আছে। এখানে ভালোমন্দ বলার ও পরামর্শ দেওয়ার যোগ্য অনেক কমিটি রয়েছে। বহিরাগত (অছাত্র), কওমি ঐতিহ্য বিরোধী যেকোনো লোকের মন্তব্য কিংবা ফেসবুক দেখে বেফাকের বিচলিত হওয়া সাজে না। সব কথার জবাব দিতে হয় না। ত্যাগ, কোরবানি ও কাজের মাধ্যমেই মানুষ মানুষকে মূল্যায়ন করে। আমরা নিজেদের ফোরামে ঐতিহ্য ও কওমি আদর্শ অনুসারে সব সমস্যার সমাধান খুঁজবো এটাই স্বাভাবিক। যেকোনো মূল্যে আমাদের নিজেদের সবাইকে একসূত্রে গেঁথে রাখতে হবে। বহু শত্রুর মধ্যে বর্তমান ফেতনার যুগে ইজতিমাইয়্যতই আমাদের রক্ষাকবজ।

মজলিসে শুরার সদস্যরা আরও বলেন, বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরামের ইজতেমায়ী প্লাটফর্ম বেফাক। প্রত্যক্ষ ও তাত্ত্বিক রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং প্রচলিত রাজনীতি থেকে দূরে থাকা নানা মত-পথ কৌশলে কাজ করা সকল আলেমের তালীমি বোর্ড বেফাক। কর্মপন্থার শত বৈচিত্র্য এখানে এসে এক হয়ে যায়। ‘আমরা বেঁচে থাকতে দীনের ক্ষতি হবে না’ এই প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদরাসা যতদিন দেওবন্দের মূলনীতির ওপর থাকবে, ততদিন পথ হারাবে না বেফাক। এই প্লাটফর্মে এসে সবাই এক।

এসময় মজলিসে শুরার সদস্যবৃন্দ বেফাক ও বেফাকে দায়িত্বশীল মুরব্বিদের বিরুদ্ধে একশ্রেণির লোকের মিথ্যা অপবাদ, বিরূপ সমালোচনা, অমূলক সন্দেহ ও বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা জানান। এর আগে বেফাক অফিসে বহিরাগতদের হুমকি, মুরব্বিদের নামে বিষোদগার, বেফাক কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার, অফিস কর্মচারীদের প্রহার, মেইন গেইটে পদাঘাত, ঘেরাওয়ের নামে ওলামায়ে কেরামের শান-মান ও গৌরবহানির পূর্ণ তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। কোনো বিষয় তাহকিক বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সামনে দালিলিকভাবে প্রমাণিত হওয়া ছাড়া মিডিয়ায় কারো অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা মুসলেহুদ্দীন গহরপুরী বলেন, মুরুব্বিরা বেফাক পরিচালনা ও এর গতিশীলতা নিয়ে মূল্যবান কথাবার্তা বলেছেন। সারাদেশ থেকে আগত প্রতিনিধিগণ বহু প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। ধীরে ধীরে এর সবই বাস্তবায়িত হবে, ইনশাআল্লাহ। সারাবিশ্বের ছাত্রদের আকর্ষণ করতে পারে-এমন একটি দারুল ইমতিয়াজ বা হাউজ অব এক্সিলেন্স বেফাক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হোক- এই প্রস্তাব করছি। যেখানে কুরআন হাদিস, ফিকাহ, ফতোয়া, আরবি সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়ে দেশের কৃতি ছাত্রদের উচ্চতর পড়ালেখার ব্যবস্থা থাকবে। সারা বিশ্বের নামি-দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সেরা উস্তাদগণকে এখানে অতিথি অধ্যাপকরূপে পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। দেশের শ্রেষ্ঠ আলেমগণ এখানে পাঠদান করবেন। বেফাকের উদ্যোগে সারাদেশে বিশেষ করে অনগ্রসর এলাকায় মক্তব ও দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র চালু করতে হবে।

উপস্থিত ছিলেন- মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব মধুপুর), মুফতি মনসুরুল হক, মাওলানা মুসলেহুদ্দীন গহরপুরী, মাওলানা জাফর আহমাদ (পীর ঢালকানগর), মাওলানা আনওয়ারুল করীম (যশোর), মাওলানা মোস্তাক আহমাদ (খুলনা), মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব (বরিশাল), মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদ (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা ইসমাঈল (নরসিংদী), মাওলানা শওকত হোসাইন সরকার (নরসিংদী), মাওলানা সাঈদ নূর (মানিকগঞ্জ), মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ ফরিদী (মাদারীপুর), মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী (ঝালকাঠী), মাওলানা মোবারক উল্লাহ (বি-বাড়িয়া), মাওলানা আনওয়ারুল হক (ময়মনসিংহ), মাওলানা মুনিরুজ্জামান (বাইতুন নূর, ঢাকা), মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী (তুরাগ, ঢাকা), মাওলানা আবু তাহের (নারায়ণগঞ্জ), মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী (লালবাগ, ঢাকা) প্রমুখ।
এমএনএকে/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222