নুর আলম সিদ্দিকী>>
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক নামাজের জায়গা তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং ফিউচার গ্রীন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় এ কাজ শুরু হয়।
- টিএসসিতে পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা থাকলেও নারী শিক্ষার্থীদের নামাজ আদায়ের কোন ব্যবস্থা ছিল না
- বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের কমনরুমগুলো বিকেল ৫টায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ক্যাম্পাসে অবস্থানরত নারী শিক্ষার্থীদের নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত কোনো জায়গা নেই।

স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এ কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়, যেখানে টিএসসিতে মেয়েদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ঢাবি ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নামাজের জায়গার সংকট আছে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, টিএসসিতে পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা থাকলেও নারী শিক্ষার্থীদের নামাজ আদায়ের কোন ব্যবস্থা নেই।

স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ ৩৬নিউজকে জানান, ‘আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে ভিসি অধ্যাপক জনাব নিয়াজ আহমেদ খান দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং পরবর্তীতে প্রক্টর স্যার ও চিফ ইঞ্জিনিয়ার এই কাজের তত্ত্বাবধান করেন।’

এ বিষয়ে মাইমুনা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদের নামাজের জায়গায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের ধর্মীয় অধিকার কেঁড়ে নেওয়া হয়েছিল। আজ বহু প্রতীক্ষা এবং দাবির পর আমরা একটি পৃথক নামাজের জায়গা পাচ্ছি, এজন্য ভিসি স্যার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ।’

এছাড়া, স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রমজান মাসে ইফতার আয়োজনের পর নামাজের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক নারী শিক্ষার্থী এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না। ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে নারী শিক্ষার্থীদের নামাজের জন্য বিশেষ জায়গা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের কমনরুমগুলো বিকেল ৫টায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ক্যাম্পাসে অবস্থানরত নারী শিক্ষার্থীদের নামাজ আদায়ের জন্য কোনো স্থান না থাকার বিষয়টিও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার আরও সুদৃঢ় হবে।
এমএনএএস/
