তাবলিগের মেহনত মানুষকে বিনয়ী করে

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাদ ফজর বয়ানে মাওলানা খোরশেদ আলম

by Fatih Work

আল্লাহ তায়ালা ঈমান আনয়নের জন্য দাওয়াতের মেহনত দিয়েছেন। মেহনতের মাধ্যমে মানুষের ঈমান অর্জন হয়। নবীগণ আ. ঈমানের দাওয়াত নিয়ে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ছুটে যেতেন। মানুষের অন্তরের অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যায়। মাখলুকের ওপর ভরসা ও বিশ্বাস অন্তর থেকে বের হয়ে যায়। আল্লাহ পাকের সত্তাগত ক্ষমতার বিশ্বাস অন্তরে বসে যায়। অন্তরে ঈমান অর্জন হয়ে যায়- এসব লক্ষ্যে নবীগণ আ. বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াতেন।

ঈমানের দাওয়াত যেমন দিতে হবে, তেমনিভাবে নামাজের দাওয়াতও দিতে হবে। নামাজের দাওয়াত দিয়ে মানুষকে নামাজের প্রতি আগ্রহী করতে হবে। নামাজ ঠিক করতে হবে। নামাজের শর্ত-রুকনসহ সহিহভাবে নামাজ আদায় না করলে নামাজই মানুষের জন্য বদদোয়া করতে থাকে। নামাজকে কালো কাপড়ের ভেতর পেঁচিয়ে নামাজির মুখের উপর নিক্ষেপ করা হয়। নামাজ বলতে থাকে, তুমি আমাকে যেভাবে ধ্বংস করেছ, আল্লাহও যেন তোমাকে তেমন ধ্বংস করেন।

বিজ্ঞাপন
banner

নবী করিম সা. বলেছেন, যার এক ওয়াক্ত নামাজ ছুটে গেল, কেমন যেন তার সম্পদ ও পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল। বরং পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার চেয়ে বেশি ক্ষতি হল। মসজিদে-ঘরে যদি সব জায়গায় নামাজ হয়, পুরো দুনিয়ার সবাই নামাজি হয়ে যায়, আর মাত্র একজন ব্যক্তি বেনামাজি থাকে, তাহলেও ওই একজন বেনামাজির গুনাহের পরিণতি সকলকে ভোগ করতে হবে। তার কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে আজাব-গজব আসবে, সেটা সবাইকে গ্রাস করবে। একজন বেনামাজির পরিণতি যদি সবাইকে ভোগ করতে হয়, তাহলে হাজার হাজার বেনামাজির পরিণতিতে আমাদের কত বিপদ হতে পারে ভেবে দেখা দরকার। এজন্য ঈমান ঠিক করার জন্য যেমন আমরা দাওয়াত দেব, তেমনিভাবে বেনামাজিকে কীভাবে নামাজি বানানো যায় সে দাওয়াতও দেব। ঈমান-নামাজের মত আমাদের জীবনে আরো যত বিষয় আছে, জীবনের যত শাখা-প্রশাখা আছে, সেসব ক্ষেত্রেও আমরা ইসলামের সঠিক বিধান মেনে চলবো। আমাদের ব্যবসা ও কৃষি হালাল হতে হবে। লেনদেন সহিহ হতে হবে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয় জীবনও ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক হতে হবে। এসবেরও দাওয়াত দিতে হবে।

আল্লাহ আমাদের শরীরে এক ‘হুকুম’ রেখেছেন, যাকে আমরা ‘রুহ’ বলি। আল্লাহ বলেছেন, ‘বলে দাও, রুহ আমার প্রতিপালকের হুকুমঘটিত’। (সুরা ইসরা, আয়াত: ৮৫) আল্লাহর এ হুকুম অবশিষ্ট থাকার কারণে মানুষ তার কান দিয়ে শুনতে সক্ষম হয়, হাত দিয়ে ধরতে সক্ষম হয়, মুখ দিয়ে বলতে সক্ষম হয়, পা দিয়ে হাঁটতে সক্ষম হয়। মস্তিষ্ক দিয়ে ভাবতে সক্ষম হয়। আল্লাহর এক হুকুম শরীর থেকে বের হয়ে গেলে, মানুষের শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনর্থক হয়ে পড়ে। সে তখন দাফনের জিনিসে পরিণত হয়। তাকে দাফন করতে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। দাফন না করলে লাশ ফেটে যাবে, পঁচে যাবে। পরিবেশ নষ্ট হবে। দাফন না করলে তার দুর্গদ্ধ মানুষ সহ্য করতে পারবে না। তাকে কবরে রেখে আসলে সে পোকা-মাকড়ের খাদ্য হয়। আল্লাহর মাত্র একটি হুকুম চলে যাওয়ার কারণে মানুষ বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে গেছে। যে দ্বীনকে আল্লাহ মানুষের কামিয়াবির জন্য দিয়েছেন, সেখানে তো এমন শত শত হুকুম আছে। এসব হুকুম মানুষের জীবনে থাকলে, দ্বীন-বিধান পালনের বরকতে আল্লাহ আসমান জমিনের সমস্ত বরকত তার জন্য খুলে দেবেন। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যদি সে সকল জনপদবাসী ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী থেকে কল্যাণধারা মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা (সত্য) প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং তারা ক্রমাগত যা করে যাচ্ছিল, তার পরিণামে আমি তাদেরকে পাকড়াও করি’। (সুরা আরাফ, আয়াত: ৯৬)

যারা নবীর দাওয়াত অস্বীকার করেছে, ইসলাম ত্যাগ করে নিজেদের বাপ-দাদার ধর্মের ওপর চলেছে, আল্লাহর বিধান অস্বীকার করেছে, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনে তো তারা কঠিন আজাবে থাকবে।

আল্লাহ তায়ালা দ্বীনকে শুধু আখেরাতের উপকারের জন্য দেননি, যদি কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে দ্বীন পালন করে, তাহলে দুনিয়াতেও সে উপকার লাভ করবে। সুখ শান্তির রাজত্ব আল্লাহ তাকে দান করবেন। আল্লাহর একটি হুকুম ‘রুহ’ না থাকার কারণে যদি একজন মানুষের দুনিয়াতে থাকার অধিকার শেষ হয়ে যায়, তাহলে অন্যান্য হুকুম পালন না করার কারণে, সমাজ-পৃথিবীতে কী পরিমাণ অশান্তি তৈরি হতে পারে ভেবে দেখা দরকার। সমাজে যত অন্যায়, অনাচার, হত্যা, চুরি, ডাকাতি সংঘটিত হয়ে থাকে, অরাজকতা সৃষ্টি হয়, সবই আল্লাহর হুকুম না মানার কারণে হয়ে থাকে।

ভাই দোস্ত আর বুজুর্গ, এজন্য মেহনত করে পুরো দ্বীনকে আমাদের জীবনে নিয়ে আসতে হবে। সমস্ত মানুষের জীবনে যেন দ্বীন এসে যায় সে মেহনতও করতে হবে। যারা নিজেদের সমস্ত যোগ্যতা, ক্ষমতা, সময় দুনিয়া অর্জনের পেছনে ব্যয় করে, তারা ওই ধোঁকাগ্রস্ত মানুষের মত, যে সফরে বের হয়েছে, পিপাসা নিবারণে পানির প্রয়োজন হয়েছে, অথচ তার কাছে পানি নেই। দূরে বালির স্তূপ দেখে মনে করেছে সেখানে পানি আছে, গিয়ে দেখে মরিচিকা। পানি না পেয়ে অবশেষে তার মৃত্যু হয়ে যায়। কুরআনে আল্লাহ এটার উদাহরণ দিয়েছেন মদের সাথে। মদ প্রথম প্রথম তো উপকারী মনে হয়, কিন্তু তার শেষ পরিণতি খুব খারাপ হয়। এজন্য দ্বীন বাদ দিয়ে দুনিয়ার পেছনে পড়ে থাকলে, প্রথমে লাভ দেখে ধোঁকা খায়, কিন্তু আসল জীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ‘হে মানুষ! নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং এই পার্থিব জীবন যেন তোমাদের কিছুতেই ধোঁকায় না ফেলে এবং আল্লাহর সম্পর্কেও যেন মহা ধোঁকাবাজ (শয়তান) তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে’। (সুরা ফাতির, আয়াত: ৫)  ঈমানের দাবি হল, মানুষ ধোঁকার জিনিস থেকে নিজেকে দূরে রাখবে। নবী করিম সা. আয়াত পাঠ করলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা যাকে হেদায়েত দান করার ইচ্ছা করেন, তার হৃদয়কে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। (সুরা আনআম, আয়াত: ১২৫) অতঃপর তিনি বললেন, হেদায়েতের আলো যখন হৃদয়ে প্রবেশ করে, তখন তা (ইসলামের বিধানসমূহ গ্রহণ করার জন্য) উন্মুক্ত হয়ে যায়। তখন সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে অবস্থা জানার কি কোনো নিদর্শন আছে, যার দ্বারা চেনা যাবে? নবী সা. বললেন, আছে। প্রতারণার ঘর (দুনিয়া) হতে দূরে সরে থাকা, চিরস্থায়ী ঘর (আখেরাত)-এর প্রতি ঝুঁকে পড়া, আর মৃত্যু আসার পূর্বে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা’। (মেশকাত, হাদিস: ৫২২৮)

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘বলে দাও, আমি কি তোমাদের বলে দেব, কর্মে কারা সর্বাপেক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত? তারা সেই সব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের সমস্ত দৌড়-ঝাঁপ সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, অথচ তারা মনে করে তারা খুবই ভালো কাজ করেছে’। (সুরা কাহফ, আয়াত: ১০৩-১০৪) যারা দুনিয়া অর্জনের পেছনে নিজের যোগ্যতা, সময় ব্যবহার করে, তাদের পরিচয় আল্লাহ উপরের আয়াতে উল্লেখ করেছেন।

আরেক ধরনের মেহনত এমন আছে, যেখানে প্রথম দিকে লোকসান মনে হলেও, শেষ পরিণতিতে শুধু লাভ আর লাভ পাওয়া যায়। যেমন কৃষক জমিনে গম-ধান ইত্যাদি ফসলের বীজ বোনে। যে ব্যক্তির বুদ্ধি নেই, সে তো এটা দেখে মনে করে, কৃষক কেন মাটিতে ফেলে ধান-গম নষ্ট করছে। কিন্তু যখন ছয় মাস পর কৃষক জমিন ভরে ধান পায়, গম পায়, তখন সে পুরো বছর সেখান থেকে খায়, অন্যকে খাওয়ায়। সে এখান থেকে অনেক লাভ পায়। কৃষকের জানা ছিল, শুরুতে আমাকে অর্থ ব্যয় করতে হবে, বীজ খরচ করতে হবে, জমি চাষউপযুক্ত করতে হবে, এরপর আবার ছয় মাস অপেক্ষা করতে হবে। তারপর আমি লাভবান হব। এমনিভাবে আল্লাহকে পাওয়ার জন্য, দ্বীন পাওয়ার জন্য, প্রথমে দুনিয়াবি কিছু স্বার্থ, কিছু ব্যবসা, কিছু ত্যাগ শিকার করতে হয়। মানুষ এসবকে নিজের ক্ষতি মনে করে। দ্বীনদার লোকের অন্তরে যে নুর থাকে, সে নুর দ্বারা বুঝতে পারে, শরিয়তের হুকুম-আহকাম মানার ভেতরেই কামিয়াবি। শরিয়ত না মানা চরম ব্যর্থতা। এরপর যখন সে এ বিশ্বাস রেখে দ্বীনের বিধান অনুযায়ী জীবন যাপন করতে থাকে, আল্লাহ তায়ালা তাকে সর্বোত্তম আখলাক দান করেন, সফলতা দান করেন, সুখ-শান্তি দান করেন, বিপদ-আপদ দূর করে দেন। কারো আখলাক সুন্দর হয়ে গেলে, শত্রুও তার বন্ধু হয়ে যায়। সবার কাছে সে প্রিয় হয়ে যায়। তার মাধ্যমে এমন পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়, মানুষ সে পরিবেশে সহজে হেদায়েতের রাস্তায় এসে যায়।

এক সাহাবি তার গোলামকে নিয়ে বাজারে গেছেন। ঘোড়া ক্রয় করবেন। তিনি বাজারে গিয়ে বললেন, আমি অন্য কাজ সেরে আসি, তুমি কোনো ঘোড়া বিক্রেতা পেলে ক্রয় করে ফেলবে। তিনি চলে গেলেন। এদিকে গোলাম ৪০০ দিরহাম দিয়ে ঘোড়া ক্রয় করে ফেললো। সাহাবি ঘোড়া সম্পর্কে ভালো বুঝতেন। যোদ্ধা ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কত দিয়ে ক্রয় করেছো? গোলাম জানালো, ৪০০ দিরহাম। তিনি ঘোড়ার মালিকের সাথে কথা বললেন, ঘোড়ার মালিকও ৪০০ দিরহামে রাজি। তিনি বললেন, এ ঘোড়ার দাম তো ৪০০ দিরহাম না। ঘোড়ার মালিক মনে করেছে, সাহাবি হয়ত দাম আরো কম বলবেন। বিক্রেতা জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে দাম কত দিবেন আপনি? সাহাবি বললেন, ৫০০ দিরহাম দেব। সাহাবি যেহেতু সরদার শ্রেণির মানুষ। কোনটি কম দামি, কোনটি বেশি দামি ঘোড়া এসব তিনি জানতেন। বিক্রেতা আশ্চর্য হয়ে গেলেন। এরপর সাহাবি আবার বললেন, না আমি ৬০০ দিরহাম দিতে চাই। এভাবে সর্বশেষ তিনি ৮০০ দিরহামে ঘোড়া ক্রয় করলেন! এখানে সাহাবির জন্য প্রথম চুক্তি অনুযায়ী ৪০০ দিরহাম দিয়ে ঘোড়াটি ক্রয় করা শরিয়তের দৃষ্টিতে পুরোপুরি সহিহ ছিল। এরপরও তিনি ৮০০ দিরহাম দিয়ে ক্রয় করলেন এজন্য যে, ঘোড়ার মালিক আসলে জানে না তার ঘোড়া অনেক দামি। এজন্য সে কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে সাহাবি তাকে লোকসানে ফেলতে চাননি। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য, এটাই ইসলামের শক্তি। ইসলামকে কেউ নিজের ভেতর ধারণ করলে, সে কখনো মানুষকে মূল অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না। সাহাবির এই আচরণ দেখে বিক্রেতা খুব আশ্চর্য হলে সাহাবি বললেন, দেখ আমরা নবী করিম সা.-এর হাতে বাইয়াত হয়েছি যে, আমরা কাউকে ধোঁকা দেব না, কাউকে ঠকাবো না।

হজরত আলী রা. বাজারে গেলেন। ইহুদি এক দোকানদারের কাছে দেখলেন, তার চুরি হওয়া বর্মটি ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। তিনি তখন খলিফা। তিনি বর্ম দাবি করে দোকানদারকে আদালতে নিয়ে গেলেন। আদালতের বিচারক কাজী শুরাইহ রহ., তিনি আলী রা.-এর ছাত্র ও তার অধীনস্ত সরকারি কর্মকর্তা। আলী রা. খলিফার ক্ষমতা ব্যবহার করে বর্মটি নিয়ে নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি সে ক্ষমতা ব্যবহার না করে, ইনসাফের পদ্ধতি বেছে নিলেন। আদালতে এলেন। বিচারক বললেন, বাদির ওপর দায়িত্ব হল, তিনি সাক্ষী উপস্থিত করবেন। আপনি সাক্ষী উপস্থিত করুন। আলী রা. বললেন, আমার দুই জন সাক্ষী আছে, আমার গোলাম ও সন্তান। উত্তরে বিচারক বললেন, আপনার আজাদকৃত গোলামের সাক্ষ্য তো গ্রহণযোগ্য, কিন্তু সন্তানের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। আলী রা. বললেন, শুরাইহ তুমি কি শোনোনি আল্লাহর রাসুল সা. বলেছেন, হাসান হুসাইন জান্নাতি যুবকদের সরদার। তাদের সাক্ষ্য তুমি কবুল করবে না? শুরাইহ বললেন, জি আমিরুল মুমিনিন আমি শুনেছি। তবে আপনি কি নবী সা.-এর হাদিস শোনেননি? তিনি বলেছেন, পিতার পক্ষে সন্তানের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আপনার সাক্ষী উপস্থিত না থাকার কারণে বর্মটি ইহুদিই পাবে। অথচ বর্মটি মূলত আলী রা-এরই ছিল। এ ঘটনা শেষ হওয়ার পর, আদালতের ফয়সালা দেখে ইহুদি মুসলমান হয়ে গেলেন। ইহুদি মুসলমান হয়ে গেলে, হজরত আলী রা. তাকে ওই বর্মটি হাদিয়া দিয়ে দিলেন। ফলে নবমুসলিম সারা জীবন আলী রা.-এর সাথে ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি শহিদ হয়ে যান।

মক্কা বিজয়ের সময় নবী করিম সা. সর্বোৎকৃষ্ট আখলাক প্রদর্শন করেছেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে না’। (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৯২) তাবলিগের এ মেহনতের সাথে যুক্ত হলে এসব আখলাক ও গুণাবলি অর্জন করা সম্ভব হবে। এ মেহনতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নবীওয়ালা গুণসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা।

শ্রুতি লিখন: আমিরুল ইসলাম লুকমান

এনএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222