লেবানিজ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অবমাননাকর মন্তব্য করার পর মার্কিন দূত টম ব্যারাক আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) আর আরাবিয়া সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে টম ব্যারাক সাংবাদিকদের জন্য অপমানজনক ‘পশু’ শব্দ ব্যবহার করেন। এই অশালীন মন্তব্যের জেরেই বৃহস্পতিবার তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
টম ব্যারাক তুরস্ক ও সিরিয়ার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত হলেও বর্তমানে লেবাননে একটি মিশনে অবস্থান করছেন। ক্ষমা প্রার্থনার সময় তিনি বলেন, তার উদ্দেশ্য অপমান করা ছিল না, তবে মন্তব্যটি অনুপযুক্ত ছিল।
মঙ্গলবার তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদলসহ বৈরুত সফরে যান। সেখানে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল।
ঘটনার শুরু সংবাদ সম্মেলনেই। সাংবাদিকরা তাকে নির্ধারিত পডিয়ামে যেতে বলেন, কিন্তু তিনি অন্য জায়গা থেকে কথা বলতে শুরু করেন। এসময় সাংবাদিকরা আপত্তি জানালে টম ব্যারাক বলেন, ‘ভদ্র আচরণ করুন, সহনশীল হোন, না হলে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে দেব।’ এরপরই তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি এমন পশুর মতো বিশৃঙ্খলা চলতে থাকে, তবে আমরা এই সম্মেলন ছেড়ে চলে যাব।’
তার এই মন্তব্যে লেবানিজ প্রেস সিন্ডিকেট তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা টম ব্যারাকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানায় এবং হুঁশিয়ারি দেয়, ক্ষমা না চাইলে তার সফর বয়কট করা হবে।
ঘটনার পর লেবাননের প্রেসিডেন্ট ভবন থেকেও একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে এক অতিথির মন্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করা হলেও টম ব্যারাকের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার মারিও নওফেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম ব্যারাক বলেন, তিনি ‘পশু’ শব্দটি অপমানজনক অর্থে ব্যবহার করেননি। তার উদ্দেশ্য ছিল ‘আমরা কি একটু শান্ত থাকতে পারি, আমরা কি সহনশীল হতে পারি?’ তিনি স্বীকার করেন, ওই মুহূর্তে তাকে আরও সহনশীল ও ধৈর্যশীল হওয়া উচিত ছিল।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর টম ব্যারাকের লেবানন সফর শুরু হয়। নেতানিয়াহু বলেছিলেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে লেবানন সরকারের ঘোষণা কার্যকর হলে ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে আসতে পারে।
তবে বুধবার নির্ধারিত দক্ষিণ লেবানন সফরটি টম ব্যারাককে বাতিল করতে হয়। তিনি হেলিকপ্টারযোগে এলাকায় পৌঁছালেও সেখানে তার উপস্থিতি ঘিরে বিক্ষোভের খবর পাওয়ার পর তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে, এ হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও একটি রকেট উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম।
সূত্র: আল আরাবিয়া
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
