কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্যদের আবাসিক কম্পাউন্ডে ইসরায়েলি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দোহা। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত ও অপরাধমূলক’ উল্লেখ করে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কাতারের নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
বিবৃতিতে জানানো হয়, নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কাতার স্পষ্ট করে দিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ইসরায়েলের এ ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের কড়া জবাব দেওয়া হবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছে, শিন বেতের (অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা) সঙ্গে সমন্বয় করে দোহায় হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে “সুনির্দিষ্ট হামলা” চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ অভিযানে যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে।
হিব্রু সূত্রে উদ্ধৃত একজন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কাতারে হামাস নেতৃত্বকে টার্গেট করেছি। তাদের মধ্যে খলিল আল-হাইয়া ও জাহের জাবারিন রয়েছেন। ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।” ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম দাবি করেছে, দোহায় হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যায়ের সর্বসম্মতিক্রমেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, হামাসের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার সময় দোহায় তাদের আলোচক দল হামলার শিকার হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে মার্কিন ও ইউরোপীয় সমর্থনে ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়ে আসছে। এতে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ২৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। নিখোঁজ রয়েছেন ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ। লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দুর্ভিক্ষে বহু মানুষের প্রাণ গেছে। পাশাপাশি গাজার অধিকাংশ শহর ও অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
হাআমা/
